সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে

শীতকালীন প্রভাবে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে শীতের সৌন্দর্য Platform ভাব গড়িয়েছে। এ সময় মৌসুমি সবজির সরবরাহ ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে বাজারে এর দাম অনেকটাই কমে গেছে। তবে, অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির কেজি মূল্য ইতিমধ্যে ২০ টাকা বাড়ছে, যা মুরগি শিল্পে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোনালি মুরগির দাম এখন কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশি মুরগির দাম ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বাজারে দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে বিক্রেতারা ফিডের দাম বৃদ্ধি এবং খামার পর্যায়ে অন্যান্য খরচের বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, ইলিশ মাছের সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে সুরক্ষিতভাবে দেখা যায়, শীতের মৌসুমে সবজির সরবরাহ প্রতিদিনই বাড়ছে, ফলে দর কমতে শুরু করেছে। ফুলকপি, শিম, লাউ, টমেটোসহ সব ধরনের সবজির দাম এখন তুলনামূলকভাবে কম। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ফুলকপির উৎপাদন ১৪ শতাংশ বেড়েছে এবং বাঁধাকপির উৎপাদন প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে সবজির দাম অনেক সময় বেশি হয় কারন, প্রথমে আসা ফসলগুলো আকারে ছোট হয় এবং সরবরাহ কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পায়।

শীতকালীন এ সবজিগুলোর মধ্যে ফুলকপি জনপ্রিয়। এর ব্যবহার রান্না, ভাজি, স্যুপ, সেদ্ধ বা সালাদ হিসেবে ব্যাপক। বাঁধাকপি ও শীতের অন্য সবজিগুলোর চাষ ও ব্যবসা করে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। বিশেষ করে গত দুই বছরে ভালো দামে বিক্রি হওয়ার ফলে এ বছর তারা আগের চেয়ে বেশি চারা লাগিয়েছেন।

উৎপাদন কেন্দ্রীকভাবে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের কিছু জেলাতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বেশি উৎপন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, মানিকগঞ্জ ও সাভারসহ ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলো থেকেও এ সবজির সরবরাহ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলকপি ও বাঁধাকপি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, এ জন্য কৃষি গবেষণা দপ্তর বিভিন্ন উৎকৃষ্ট জাতের বর্ণনা দিয়েছে, যেমন বারি ফুলকপি-১ (রুপা), বারি ফুলকপি-২ ও ৩, স্নো হোয়াইট, হোয়াইট ফ্লাশ ২০২০ ও অটাম জায়ান্ট হাইব্রিড। বাঁধাকপির মধ্যে রয়েছে বারি বাঁধাকপি-১ ও ২, আইপিএসএ বাঁধাকপি-১, যা গ্রীষ্মকালেও চাষ হয়।

ঢাকার বাজারে হালকা ভিত্তিতে পাইকারি দামে ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদির ভূইয়া জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা প্রতি পিস ফুলকপি ২০-৩০ টাকা দরে কিনে, ২৫-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন। চূড়ান্ত বিক্রীতে এগুলি ৪০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। কৃষকরা অনেকেই সরাসরি এ সবজি ঢাকায় নিয়ে আসছেন, যেমন যশোরের নোঙ্গরপুরের কৃষক আবদুস সাত্তার সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। বর্তমানে, ছোট আকারের আগাম বাঁধাকপি বিক্রি করে তিনি উল্লেখ করেছেন, এর মাধ্যমে তিনি স্বল্প মুনাফার প্রত্যাশা করছেন।

বাজারে অন্যদিকে, ঢাকায় নিউমার্কেটের বনলতা বাজারে বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজি প্রতি ১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬৫০ টাকা, আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়।Price গুলোর বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিক্রেতারা ফিডের দাম ও খামার খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করছেন।

এ ছাড়া, মাছের বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকছে। মাঝারি আকারের ইলিশের কেজি মূল্য ১৫০০ টাকা, বড় আকারের ইলিশের দাম ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি ও পরিবহন খরচের কারণে দাম কমছে না। অন্যান্য মাছের মধ্যে রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, মাগুর, চাষের কৈ, সিলকার্প, বোয়াল, কালিবাউশ, আইড়, কাঁচকি, মলা, পাবদা এবং গলদা চিংড়ির দামও চড়া, যা কেজিতে ১৯০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন