রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উসমান খাজার বিদায়ী টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয়: অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে অধিকার

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের একজন স্বর্ণালী তারকা উসমান খাজার বিদায়ী টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলের জন্য এক স্মরণীয় জয়ে আবদ্ধ হন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজের ফলাফলে ৪-১ ব্যবধানে প্রাধান্য বিস্তার করে। এই ম্যাচের জন্য নির্ধারিত দিনটি ছিল বিশেষ, কারণ এই মাঠে আট বছর বয়সে ক্রিকেট জীবন শুরু করেছিলেন খাজার, আর এখন নিজের ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি দেখার সুযোগ পান এই চেনা মাঠে। যদিও বিদায়ী ম্যাচে বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি, তথাপি অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় ও তার বিদায়ে অন্য এক আবেগের ঝিলিক জ্বলজ্বলে হয় দর্শকদের মনে। সিরিজের ফলাফল আগে থেকেই স্পষ্ট হলেও, শেষ টেস্টের জন্য দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছিল, যেখানে টেস্টের দিন দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনই ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে যায়। পঞ্চম দিনে, ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৩৪২ রানে অলআউট হওয়ায়, অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট দাঁড়ায় মাত্র ১৬০ রান। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান জ্যাকব বেথেল ১২ রান যোগ করে ব্যক্তিগত ১৫৪ রানে ম্যাচ থেকে বিদায় নেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে দারুণ কার্যক্রম দেখান ব্যু ওয়েবস্টার ও মিচেল স্টার্ক, যারা প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট নেন। এরপর, অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং শুরু করে দ্রুত ৬২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে, তবে মাঝপথে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত মার্নাস লাবুশেনের ৩৭ ও ক্যামেরন গ্রিনের অপরাজিত ২২ রানে ম্যাচ শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মধ্যে দিয়ে।

বিশেষ করে এই ম্যাচটি ছিল উসমান খাজার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আবেগপূর্ণ। ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ক্রিকেটার যখন শেষবারের মতো ক্রিজে প্রবেশ করেন, তখন মাঠে তার জন্য গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রথম ইনিংসে ১৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান করে আউট হওয়ার পর, তিনি সিডনির সবুজ ঘাসে মাথা নত করে সিজদা করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের আরও আবেগপ্রবণ করে তোলে। পুরো গ্যালারিতে এক অনন্য আবেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে সবাই তাঁর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। খাজার ক্যারিয়ারে ৮৮টি টেস্ট, ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা হয়েছে, যেখানে অর্জন করেছেন মোট ৮,০২৪ রান। তাঁর মধ্যে রয়েছে ১৮টি সেঞ্চুরি ও এক ডাবল সেঞ্চুরি।

অস্ট্রেলিয়া যখন অ্যাশেজ ট্রফি জয় করে, তখন পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে গ্যালারি থেকে দর্শকদের মাঠে প্রবেশের বিশেষ অবকাশ দেওয়া হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও রঙিন করে তোলে। এবারের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া তাদের দৃঢ়তাকে প্রমাণ করেছে, কারণ তারা মূলত অধিকাংশ ম্যাচই জয়লাভ করেছে, শুধু মেলবোর্ণে চতুর্থ টেস্টে হেরে যায়। সিডনি টেস্টের জয় এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ আধিপত্যের নিশ্চয়তা দেয়। অবশেষে, অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের পারফরম্যান্স ও উসমান খাজার অসামান্য অবদানকে প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস মনে করেন, এ হারে তারা শিখে ভবিষ্যতে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এইভাবে, উসমান খাজার প্রস্থান ও অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মাধ্যমে এই মর্যাদাপূর্ণ লড়াইটি শেষ হয়, যেখানে উভয় দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বন্ধুত্বের গাথা জ্বলজ্বলে রয়ে যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন