ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যোগ দিতে পারে—এমন মতবিনিময় চলছে। তবে, ইসরায়েল এই পরিকল্পনায় পাকিস্তানি সেনা অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর মত প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের এনডিটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী— ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)-এ পাকিস্তানসহ কিছু দেশের যোগদানের কথা আলোচনা হচ্ছে। তবে, ইসরায়েল এই পরিকল্পনায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণের প্রতিও অনীহা প্রকাশ করে। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতি গড়ে তুলতে চাই যেখানে হামাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে। এর জন্য মূল লক্ষ্য হলো হামাসকে ভেঙে ফেলা, এর বাইরে অন্য কোনও উপায় নেই।’ তবে, তিনি জানিয়েছেন, অনেক দেশ ইতোমধ্যে তাদের সেনা পাঠানোর বিষয়ে অনিচ্ছুক, কারণ তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অরাজি। এতে করে বহুপক্ষীয় শান্তিরক্ষা বাহিনীর কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এনডিটিভির রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গাজা পরিস্থিতিতে যোগসূত্র থাকার অভিযোগের কারণে ইসরায়েল এই বাহিনীতে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাতে দ্বিধা করছে। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গাজায় পাকিস্তান সেনার ভূমিকা নিয়ে ইসরায়েল স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। তার মতে, ‘প্রতিটি দেশ কেবল তখনই সহযোগিতা করবে যখন তারা বিশ্বাস করে কেবল তখনই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন নয়।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতেই ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য অংশ হিসেবে দেখছে না। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরের তারিখে মার্কিন নেতৃত্বে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হলো মুসলিম বেশিরভাগ দেশগুলোর সেনা সমন্বিত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী তৈরি। এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব থাকবে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, হামাসকে নিরস্ত্র করা, সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ, এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় মার্কিন সেনা পাঠাবে না—এমন সিদ্ধান্তে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনায় পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও আজারবাইজানের মতো দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে তারা বিশ্বস্ত এই বহুজাতিক বাহিনীতে অংশ নেয়।





