কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় ধরনের মেরুকরণের নজরদারি দেখা গেছে। তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে জোট গড়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জিয়ারকান্দি মাতৃছায়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বড় নির্বাচনী জনসভায় তারা এই দলবদল করেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন তিতাস ও হোমনা এলাকায় আওয়ামী লীগের শক্তির জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে এই দলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিলেন সেলিম ভূঁইয়া, তিনি নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আজমল সরকার। তিনি যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি মূলত একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগে স্থিতিশীল ছিলেন। তবে দলের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় ও বারবার অবমূল্যায়নের শিকার হওয়ায় তিনি কঠোর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রভাবশালী প্রার্থী তার ভোট জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছিল। এই কষ্টের অভিজ্ঞতা ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আস্থাশীল হয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ছাড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
অন্য একজন নেতা মাজহারুল ইসলাম সরকার জানান, তারা মূলত তারেক রহমানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লষিত করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সংস্কার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের এই পদক্ষেপ। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মনে ছিল দল ত্যাগের ইচ্ছা, কিন্তু সুবিধাজনক পরিবেশ না থাকায় তা করা হয়নি। তবে গতকাল দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বিকেলে বিএনপির পতাকাতলে চলে আসেন।
এ প্রসঙ্গে তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূঁইয়া বলেন, বিএনপি একটি উদার ও গণতান্ত্রিক দল। যারা ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান, তাদের জন্য দলের দরজা সব সময় খোলা। জিয়ারকান্দিতে এই দলবদল ধানের শীষের বিজয়কে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সন্ধ্যার এই জনসভা একটি বিশাল রূপ নেয়, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ ছড়িয়ে দেয় এবং স্থানীয় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।





