বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানির জন্য বিপর্যয়: ১৫ লাখ রিয়ালে এক ডলার, মুদ্রার ইতিহাসের নিন্মস্তর

দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, ব্যাহত অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইরানের অর্থনীতি এখন এক গভীর সংকটের মুখোমুখি। দেশটির প্রধান মুদ্রা রিয়ালের মান ইতিহাসের সব চেয়ে নিচে এসে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মুদ্রা পর্যবেক্ষণ ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অর্থনীতির এই দুর্দিনে খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলার কিনতে আপনাকে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ ইরানি রিয়াল। এই অপ্রত্যাশিত দরপতন সাধারণ মানুষের জীবনে গুরত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে, জীবনযাত্রা কঠিন করে তুলছে।

বার্তাসংস্থাগুলো যেমন রয়টার্স এবং মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘বোনবাস্ট’ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার তেহরানে মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোতে রিয়ালের এই রেকর্ড দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র এক মাসের মধ্যেই ইরানি মুদ্রার মান কমেছে প্রায় ৫ শতাংশের বেশি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকেরা নিজেদের সঞ্চয় রক্ষা করতে রিয়াল বিক্রি করে স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রার দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় বাজারে ডলার-এর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে, কারণ মুদ্রার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা এই দরপতনকে আরও ত্বরান্বিত করছে।

ইরানের অর্থনৈতিক এই ভাঙনের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অভাব এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীতির প্রতিক্রিয়ায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রার মান কমার পাশাপাশি দেশটিতে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি সরকার কিছু খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানি পণ্যের ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রায় এক মাস আগে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা ডেকে দোকানপাট বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেন। বাজারের অস্থিতিশীলতা ও মুদ্রার এই বিপর্যয় দেশের আমদানিনির্ভর ব্যবসাগুলোর জন্য বড় সংকট সৃষ্টি করেছে।

অবশ্যই, এই অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেও ইরানের নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ‘স্বাভাবিক গতিপথে’ রয়েছে। তবে এই মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আশ্বাসের পরিবর্তে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এখনই কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার ও বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন না হয়, তবে ইরানের মুদ্রাস্ফীতি কন্ট্রোলের বাইরে চলে যেতে পারে। এই দরপতন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই ডেকে আনে না, এটি দেশের দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও ওষুধের আমদানিকে দুরূহ করে তোলে, ফলে তৈরি হয় মানবিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া।

পোস্টটি শেয়ার করুন