বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পেনে ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীর বৈধতা দেবে সরকার

বর্তমান বিশ্বে যখন ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো কঠোর অভিবাসন নীতি চালিয়ে যাচ্ছে, সেই সময়ে স্পেন মানবতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশটির সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে স্পেনে বর্তমানে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতার সুযোগ দেয়া হবে। মাদ্রিদ প্রশাসনের মতে, এই অভিবাসীরা দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা এই সিদ্ধান্তের পেছনে এক বড় প্রভাব ফেলেছে।

গত ২৭ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইজ বিস্তারিত জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যারা বৈধতা পাবেন, তারা দেশজুড়ে যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো পেশা করবে আইনি অধিকার পাবেন। মন্ত্রী বলছেন, যারা ইতিমধ্যে স্পেনে বসবাস করে দেশের উন্নয়নের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত, স্পেনের বৃদ্ধ ও অকাল পেনশনের চাপ কমাতে এবং তরুণ শ্রমশক্তি বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে অনেক ভাগ্যবিধাতা মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বলছে। এরই একজন, পেরু থেকে আসা ৩০ বছর বয়সী যুবক জোয়েল ক্যাসেডা, যার একটি দুর্ঘটনায় এক হাত হারানো হলেও ছয় বছর ধরে অবৈধভাবে ডেলিভারির কাজ করে আসছিলেন। তিনি বলেন, এখন এই বৈধতা পেলে তিনি তার পরিবারসহ এক স্থায়ী ও নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারবেন। ওউসমান উমর ও লামিন সারের মত অভিবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি কেবল অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং পুরো স্পেনের সমাজের জন্যই মঙ্গলজনক, কারণ তারা এখন থেকে নিয়মিত কর দিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব অভিবাসী কমপক্ষে পাঁচ মাস ধরে স্পেনে বসবাস করছে এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছে, তারাই এই বৈধতার সুবিধা পাবেন। আবেদন প্রক্রিয়া এপ্রিলে থেকে জুনের মধ্যে চালু হবে। তবে, এই মানবিক উদ্যোগের বিরুদ্ধে স্পেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সমালোচনা করেছে। ভক্সের নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল এই পদক্ষেপকে ‘অপ্রয়োজনীয় অভিবাসন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এতে ভবিষ্যতে আরও বেশি অবৈধ অভিবাসী স্পেনে প্রবেশ করবে এবং দেশের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বাড়বে। তবুও, রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও, স্পেনের সরকার এই সিদ্ধান্ত সরাসরি ডিক্রির মাধ্যমে কার্যকর করছে। মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং অভিবাসীদের মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী করে তোলা।

পোস্টটি শেয়ার করুন