বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ক্ষেত্রে আকাশসীমা ব্যবহারে দেবে না

তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক সংঘর্ষে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা তিনি গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে দেন, যা রাষ্ট্রীয় সংস্থা এসপিএ নিশ্চিত করেছে। আলাপকালে যুবরাজ সালমান গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিয়াদ সবসময় সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের উদ্যোগকে সমর্থন করে।

ইরানের পক্ষ থেকেও এই আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। ইরানের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজকে জানান, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য রাজধানী তেহরান আন্তর্জাতিক আইনের মধ্যেই থাকাকালীন যুদ্ধ এড়ানোর জন্য সব ধরনের সহায়ক উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আক্রমণে তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

অন্যদিকে, ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রস্তুতি ও হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়ে ছিলেন যে, একটি মার্কিন অ্যারোডমা ইরানের দিকে রওনা হয়েছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেটি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না। মূলত পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত এবং বিক্ষোভকারীদের উপর সহিংসতা বন্ধে এই সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হয়। সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন যে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়তাকারী যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যা এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করছে এবং প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

বৈশ্বিক মহলে ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, তেহরান তার অবস্থানে दृढ़। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে সবচেয়ে বড় দমন-পীড়ন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এর জবাবে ইরানের সরকার বলেছে, এই প্রাণহানি ও সহিংসতার জন্য বাইরে থেকে মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ’ শক্তিগুলিকেই দায়ী করা যায়। তেহরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, প্রবাসী বিরোধী শক্তির মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ’ দোষে এই সংঘর্ষ ও ভয়ঙ্কর সহিংসতা ঘটেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন