শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইমরান খান দৃষ্টিশক্তির ৮৫% হারিয়েছেন: সুপ্রিম কোর্টে মেডিকেল রিপোর্ট

আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন, হাতে মাত্র শতকরা ১৫ শতাংশ দৃষ্টি রয়েছে—এমন তথ্যসমৃদ্ধ মেডিকেল রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে।

অভিযোগ ও চিকিৎসার আবেদন করে নিজের আইনজীবী সালমান সাফদারের মাধ্যমে ইমরান খান সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করেছিলেন। ওই পিটিশন বিবেচনায় নিয়ে আদালত আদিয়ালা কারাগারে একটি মেডিকেল টিম পাঠানোর নির্দেশ দেন। মেডিকেল টিমের সঙ্গে আমিকাস কিউরি (আদালতের আমন্ত্রিত পরামর্শদাতা) হিসেবে সালমান সাফদারও উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে মেডিকেল টিম তাদের প্রতিবেদন সর্বোচ্চ আদালতে জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিশনার ইমরান খান রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। কারাবাসে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। বর্তমানে তার দৃষ্টি প্রায় আটচল্লিশ ভাগ—or rather—৮৫ শতাংশভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি টিকে আছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান সাধারণত গুরুতর শারীরিক সমস্যায় অতীতে কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাননি। তবে দৃষ্টিশক্তি কমা শুরু হওয়া পর্যায়ে তিনি বন্দি অবস্থায় একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন; কিন্তু তার দাবি অনুসারে কর্তৃপক্ষ তা যথাযথভাবে গুরুত্ব দেননি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁর চোখের সমস্যা গত অক্টোবর থেকেই শুরু হয়।

আইনজীবী সালমান সাফদার বলেন, ‘‘তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে। আমাদের সঙ্গে কথা বলার সময় বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে দেখা গেছে।’’ একইসঙ্গে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে—তবে ইমরান খান বলে দিয়েছেন যে এমন সাক্ষাতের সুযোগ তারা কার্যত পাচ্ছেন না।

পটভূমি হিসেবে বলা হয়, কিংবদন্তি ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ইমরান খান ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতার কেন্দ্রে জটিলতা ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থাভোটের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয় এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে তিনি আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মেডিকেল রিপোর্টটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে জমা থাকায় আদালত থেকে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা আগামীতে সিদ্ধান্ত হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন