মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান

পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো টানা চতুর্থ দিনও কারাগারে আটক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দ্রুত চিকিৎসার দাবিতে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে তার চোখে গুরুতর সমস্যা ধরা পড়ার খবর সামনে আসার পর এই আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও বিরোধী জোট তেহরিক তাহাফফুজ-ই-আইন পাকিস্তান (টিটিএপি)-এর আইনপ্রণেতারা সংসদ ভবন, সংসদ লজ এবং খাইবার পাখতুনখোয়া হাউজের সামনে অবস্থান নেন। টিটিএপি জানিয়েছে, ইমরানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে আল-শিফা আই ট্রাস্ট হাসপাতালে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।

ইমরান খানের মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি ‘সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ নামে চোখের একটি গুরুতর রোগে আক্রান্ত। এই রোগ সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টি নষ্ট হয়েছে।

এই তথ্য প্রকাশের পর পিটিআই, ইমরান খানের পরিবারের সদস্য এবং বিরোধী নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার দাবি জানান। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই, সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর।

জিও নিউজের তালিকায় বলা হয়েছে, পাঁচজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ইমরান খানের এক ঘণ্টাব্যাপী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন এবং তাদের প্রাথমিক বলা ছিল ডান চোখের ব্যথা কিছুটা কমেছে; চিকিৎসা চলমান থাকায় আরও উন্নতির আশা করা হচ্ছে। এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় করা হয় এবং আদালত একই সঙ্গে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল প্রতিবেদন জমা দিতে বলে নির্দেশ দিয়েছিল।

এদিকে কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের চিকিৎসা নথি পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র দপ্তরে পাঠিয়েছে; নথিতে তার রক্তচাপ, نبৃত্‍-হার (নাড়ির গতি), তাপমাত্রা ও রক্তে শর্করার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইমরান খান ইসলামাবাদ হাইকোর্টে তোশাখানা-২ মামলার সাজা স্থগিত এবং চিকিৎসা ও মানবিক কারণে জামিন প্রার্থনা করেছেন। এই মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবিসহ দুইজনকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও মানবিক কারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা—এই দুই দাবিই এখন বিরোধী দলের অবস্থানের মূল মোড়।

পোস্টটি শেয়ার করুন