বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেনেভায় ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বৈঠক

পরমাণু ইস্যু নিয়ে জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাগচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকে ‘পরোক্ষভাবে’ অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া প্রথম দফার বৈঠকে তেহরান ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবার আরাগচি বাস্তবভিত্তিক এবং ন্যায্য—এমন একটি সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে গেছেন বলে সূত্র জানায়। বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও চুক্তি করা কঠিন হবে মন্তব্য করেছেন ও আশা প্রকাশ করেছেন যে ইরান যৌক্তিক সমাধানে সম্মত হবে।

বৈঠকের আগে তেহরান পুনরায় জোর দিয়ে বলেছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করলে কোনো সমঝোতা হবে না; সমঝোতা হলে তা দেওয়া–নেওয়ার ভিত্তিতে হতে হবে এবং তারা ‘জিরো’ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ দাবি মানবে না।

এরপর আরাগচি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে দেখা করেছেন। গ্রোসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েকটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার চাওয়া হয়েছে। তেহরান বলেছে, সম্ভাব্য বিকিরণ ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে পরিদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে ইরান IAEA-র কাছ থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার নিন্দা প্রত্যাশা করলেও সেই নিন্দা না আসার পর তেহরান অসন্তোষও প্রকাশ করেছে।

মিডল ইস্টে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় মার্কিন নৌবহরে এখন আছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন; এছাড়া মার্কিন শাসিত জেরাল্ড আর ফোর্ড নামের আরেকটি রণতরীও পাঠানো হয়েছে বলে সংবাদে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান হুমকি এলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সুবিধা-ঘাঁটিগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

তারই প্রেক্ষিতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের নৌবাহিনী ‘স্মার্ট কন্ট্রোল অব দ্য স্ট্রেইট অব হরমুজ’ নামে নৌমহড়া পরিচালনা করছে। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের তত্ত্বাবধানে এই মহড়া চলছে এবং তা পাঠানো হয়েছে তখনই, যখন যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় পরিসরে নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে।

বৈঠক শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ক্ষমতাধর actor—বিশেষত আফগানিস্তানের কিছু গোষ্ঠী—ও জড়িত কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে। আফগানিস্তানের তালেবান গত রোববার রেডিও ইরানের পাশতু বিভাগকে জানিয়েছে, যদি ইরানে মার্কিন হামলা হয় তারা সহানুভূতি দেখাবে এবং প্রয়োজনে সহযোগিতাও করতে পারে; তবে তা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো বড় যুদ্ধের অংশ হবে না বলে তারা জোর দিয়ে জানিয়েছে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তারা আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কোনও সংঘাত চাইছে না এবং পারমাণবিক বিতর্কটি সমাধানে যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেয়। একইবার্তাে তালেবান তাদের ভিন্ন সাক্ষ্যও দিয়েছেন—গত বছরের জুনে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সংঘটিত যেকোনো সংঘর্ষে ইরান ‘জয়ী’ হয়েছিল বলে তাদের দাবি—কিন্তু 이는 তাদের বক্তব্য হিসেবে রিপোর্ট করা হচ্ছে, প্রশাসনিক বা স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ইতিহাস নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনেভায় এই বৈঠক যে কোনো সমঝোতার দিকে গতি বাড়াতে পারে, অথবা আলোচনার ফাঁকে রাজনৈতিক ও সামরিক রণকৌশল তীব্রতর হতে পারে। দুই পক্ষই ফলতই কূটনৈতিক উত্তেজনা কমানো ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর বলে দাবি করছে। সর্বোপরি, আলোচনার টেবিলে যে চুক্তির রূপরেখা উঠে আসবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিস্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন