বৃহস্পতিবার, ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল

নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের শূন্য পদগুলোতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া খুব দ্রুততার সাথে শুরু হবে। তিনি জানান, সরকার এই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিকভাবে সক্রিয় করে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং যত শিগগির সম্ভব এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকারের পদগুলো খালি থাকায় প্রশাসনিক কাজে একটি স্থবিরতা বিরাজ করছে, যা নিরসনে এই দ্রুত নির্বাচন করা জরুরি বলে মনে করছেন মন্ত্রী। তার বক্তব্যে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিলে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।

দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ওঠা ‘ভঙ্গুর অবস্থার’ বিষয়ে নানা মতের বিরোধিতা করেও তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ নয় যতটা বিভিন্ন মহল তুলে ধরছে। তার ভাষ্য, গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলাও বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলছে এবং সব মিলিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে।

অহংকারী বা বিরোধীদলীয় রাজনীতি নিয়ে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি, বরং বলেছেন, এ সবই একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সরকারের সার্বিক অবস্থানের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণকে জানানো হবে।

সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের বক্তৃতার সূত্র ধরেই তিনি জানান, বর্তমান সরকার জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে কোনো আপস করবে না। দেড় দশকের বেশি সময় পরে ক্ষমতায় ফিরে আসা বিএনপির এই নেতা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার ও শাসনতান্ত্রিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম দিনেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফেরার এবং গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলার দিকে নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস মিলেছে তার বক্তব্যে।

পোস্টটি শেয়ার করুন