শুক্রবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বড় উল্লম্ফন

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা—এই মিলিত অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়লো। আজ বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত কাঁচা তেলের দুটো প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বগামী র‍্যালি দেখিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ফিউচার ২৪ সেন্ট (প্রায় 0.3%) বাড়ে পর-barrel 70.59 ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিনি WTI তেলের দাম ২৮ সেন্ট (প্রায় 0.4%) বেড়ে 65.47 ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বুধবারও বাজারে প্রায় ৪ শতাংশের বেশি এক উত্থান দেখা যা ৩০ জানুয়ারির পর থেকে সবচেয়ে বড় লাফ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের এই অস্থিরতার মূল চালক হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা। বিশেষত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীয়েই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে তীব্র ঘাটতি দেখা দিতে পারে—কারণ আনুমানিক ২০ শতাংশ কাঁচা তেল এই সরু জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। 지난 মঙ্গলবার ইরান ওই প্রণালী কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করার ঘটনা আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যাচ্ছে ইরান নিজের সংবেদনশীল অঞ্চলে নতুন সামরিক স্থাপনা তৈরি করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে; এ কার্যক্রমের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকার দিকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই সব নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে।

জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা চললেও নীতিগত দূরত্ব থাকা পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সমাধান দ্রুত কদাচিৎ হচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরান পরবর্তী রাউন্ডের জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে ফিরবে—তবে বর্তমানের অবিশ্বাস বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলছেন, যদিও রাজনৈতিক উত্তেজনা আছে, তবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব বেশি মূল্যবৃদ্ধিকে উস্কে দেবেন না—কারণ তা সংযুক্ত রাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক। তাই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ হলে সেটি সম্ভবত সীমিত সময় ও পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটও একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জেনেভায় শান্তি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত ফল ছাড়াই শেষ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন মজুত-পরিসংখ্যানও মূল্যচলনকে ত্বরান্বিত করেছে—বিশেষত কয়েকটি উৎসে জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে মার্কিন অপরিশোধিত পেট্রোল ও ডিস্টিলেট মজুত প্রত্যাশার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ব্যবসায়ীরা এখন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (EIA) চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে দেখছেন, যেটি ভবিষ্যৎ দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মোটকথা, প্রাপ্যতা সংকট, ভূ-রাজনীতিক উত্তেজনা এবং মজুত-সংকোচ—এই মিলিত অনিশ্চয়তা বিশ্বের তেলের বাজারকে লঘুচাপ ও উচ্চতার মধ্যেকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখেছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন ও কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন