বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ২০২৬ সালের জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় কয়েকজন খেলোয়াড়ের গ্রেড বদল এবং কিছু আকস্মিক পরিবর্তন দেখা গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচ্য হলো তাসকিন আহমেদের ও মুশফিকুর রহিমের গ্রেড পরিবর্তন।
গত বছরের চুক্তিতে তাসকিন একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন; সেই গ্রেডে তার মাসিক বেতন ছিল ১০ লাখ টাকা (প্রায় ৮,১৬৯ মার্কিন ডলার)। এবার বিসিবি তাকে ‘এ’ গ্রেডে নামিয়েছে। ‘এ’ গ্রেডে রয়েছে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসও। ‘এ’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা মাসে ৮ লাখ টাকা (প্রায় ৬,৫৩৫ মার্কিন ডলার) পাবেন। উল্লেখযোগ্য যে, এবারে কোনো ক্রিকেটারকেই ‘এ প্লাস’ গ্রেডে রাখা হয়নি।
অন্যদিকে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম, যিনি ২০২৫ সালে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন, এবার ‘এ’ থেকে ‘বি’ গ্রেডে নামানো হয়েছে। ‘বি’ গ্রেডের খেলোয়াড়দের মাসিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা (প্রায় ৪,৯০১ মার্কিন ডলার)। ‘বি’ গ্রেডে নাম হয়েছেন টেস্ট স্পেশালিস্ট মমিনুল হক, বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম, পেসার মুস্তাফিজুর রহমানসহ মোট ১১ জন ক্রিকেটার।
সেই সঙ্গে কিছু খেলোয়াড় প্রমোশন পেয়েছেন — ‘সি’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন তানজিম হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন ও মেহেদী হাসান।
একটি খেয়ালযোগ্য পরিবর্তন হলো ‘ডি’ গ্রেডের খেলোয়াড় সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়ছে। আগের চুক্তিতে এই গ্রেডে মাত্র দুজন ছিলেন, এবার সাতজন জায়গা পেয়েছেন; তাদের মধ্যে সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান সোহান উল্লেখযোগ্য। ‘সি’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা মাসে ৪ লাখ টাকা (প্রায় ৩,২৬৭ মার্কিন ডলার) এবং ‘ডি’ গ্রেডের ক্রিকেটাররা মাসে ২ লাখ টাকা (প্রায় ১,৬৩৩ মার্কিন ডলার) পাবেন।
নিচে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির পূর্ণ তালিকা দেওয়া হল:
গ্রেড এ:
নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ
গ্রেড বি:
মুশফিকুর রহিম, মমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহীদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, তানজিম হাসান তামিম, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা
গ্রেড সি:
সৌম্য সরকার, জাকের আলী, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান, নাসুম আহমেদ, খালেদ আহমেদ
গ্রেড ডি:
সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, তানভীর ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান
বিসিবির এই আপডেট জাতীয় দলের মানবসম্পদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ম্যাচ ও সিরিজকে সামনে রেখে এই গ্রেডিং খেলোয়াড়দের উপর চাপ ও প্রত্যাশা— দুটোই বাড়িয়ে দেবে।





