শনিবার, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় উত্থান

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও ইরানের পারমাণবিক বিষয়কে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চলমান অচল আলোচনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার উভয় প্রধান অপরিশোধিত তেলের সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, লেনদেন শুরুতে ব্রেন্ট ফিউচার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৪ সেন্ট (০.৩%) বাড়ে ৭০.৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২৮ সেন্ট (০.৪%) বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৫.৪৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বুধবারও তেলের দাম প্রায় ৪%–এর বেশি বৃদ্ধি পায়, যা ৩০ জানুয়ারির পর থেকে সর্বোচ্চ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কারণ হচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে—কারণ মোট সরবরাহের প্রায় ২০% এই সরু জলপথ দিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার ইরান কয়েক ঘণ্টার জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ লাইন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ইরান তার সতর্কতার এলাকায় নতুন স্থাপনা নির্মাণ করছে এবং দক্ষিণাঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় যুদ্ধে সক্ষম বড় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

পরোক্ষভাবে জেনেভায় চলা ইরানের পারমাণবিক বিষয়ক আলোচনাও এখন পর্যন্ত কোনো মূলবান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। হোয়াইট হাউস বলেছে, তেহরান যদি আলোচনার জন্য পরবর্তী পর্যায়ের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে ফিরে আসে তা খুশীর, তবে বর্তমানে চলে আসা অবিশ্বাসের সংস্কৃতি বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

নিসান সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া মনে করেন, সব কিছু মাথায় রেখেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম অতিরিক্ত বাড়তে দেবেন না, কারণ সেটি আমেরিকান অর্থনীতির জন্য বিরূপ। তাই কোনো সামরিক পদক্ষেপ হলেও তা সম্ভবত সীমিত পরিসরে ও স্বল্পকালীন হবে—এই প্রত্যাশা থেকেই বাজারে কিছুটা সান্ত্বনা আছে।

এতে আরও জড়ো হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের নতুন মোড়। সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় শেষ রূপ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বাড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুতে পতন পরিস্থিতিকে আরও চাপিয়েছে। যদিও গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহে মজুতে বাড়ার পূর্বাভাস দেখিয়েছিল, বাস্তবে পেট্রোল ও ডিস্টিলেট স্টক উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যবসায়ীরা এখন মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ)-র চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নজর রাখছেন, যা মূল্যকে আরও পরিবর্তিত করতে পারে।

সাপ্লাই ও চাহিদার এই তীব্র অসামঞ্জস্য বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ও জটিল চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। সীমিত সময়ের মধ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে না এলে তেলের বাজারে আরও ওঠাপড়া দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন