রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শহীদ মিনারে সাদিক কায়েম-ফরহাদরা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন স্প্ষট করে ক্ষোভ

আজ মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এprecated প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত কয়েকজন নেতা। তবে এই পুষ্পস্তবক অর্পণে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে দেখা দেয় বিভাজন এবং ব্যর্থ সমন্বয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন সংগঠক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদের নেতৃত্বে একটি দল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেও অভিযোগ ওঠে যে, অনেক কার্যনির্বাহী সদস্যকে সেখানে অনুপস্থিত রাখা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের একাধিক সদস্য, বিশেষ করে সর্ব মিত্র চাকমা। তিনি এক রাতে বিটিভির সরাসরি সম্প্রচারে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের ছবি শেয়ার করে জানিয়ে দেন, আমরা only টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এই পোস্টে আরও অনেক সদস্যের নাম উল্লেখ করে বিদ্রূপ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ভিপি ও জিএসের সঙ্গে মূলত ছাত্রশিবিরের নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতি ছিল বেশি, আর অন্য দলের নেতাদের পরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও সমাজের মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র সম্পর্কে।

এর আগে সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারপর বিকেলে একাংশ ডাকসুর নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নেন। তবে এই বিভাজন ও অঙ্গীকারের অভাবের পরিস্থিতি অনাকাক্সিক্ষত বলে মনে করেন অনেক শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্ব মিত্র চাকমার সেই ক্ষোভজনক পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি বিদ্রূপের স্বরে লিখেছেন, “আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে জানলাম, ডাকসু শহীদ মিনারে যায়নি, হাহা!” এই ঘটনা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রাজনীতির ভেতরে গভীর দিকভ্রম ও বিভাজনের বিষয়টিকে। এখন পর্যন্ত ভিপি সাদিক বা জিএসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এভাবেই মহান শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে এক সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন