রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে впервые জামায়াতের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাজধানী এক HISTORIC দৃশ্যের সম্মুখীন হলো। আজ শবে একুশে, রাত ১২টা ১০ মিনিটে দলীয় ও বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা-নেতাদের সঙ্গে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ফুলঅর্পণ করেন। পরে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন।

রাজনীতিবিদদের অনুপস্থিতিতে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা প্রদানের ঘটনা অনেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক ভদ্রতা প্রদর্শনের পূর্বের কোনো নজির ছিল না; তাই এবারের ঘটনাকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এটিএম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের অন্য সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এ ঘটনার আগেই একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান—শহীদ বেদিতে ফুল অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থদের শ্রদ্ধা অর্পণের পরপরই বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল শহীদ মিনারে প্রবেশ করে।

দিবসটির প্রথম প্রহর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয় ছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের একুশের আয়োজনটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী একুশের মূল চেতনা হিসেবে মানুষের অধিকার ও সমতার ওপর জোর দিয়েছেন; অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার এই শ্রদ্ধা নিবেদন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন ধারা প্রবর্তনের সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ভাষার শহীদদের স্মরণে অমর একুশে যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন