মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ২০২৬ মৌসুমের প্রথম ম্যাচে হারার পর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টার মিয়ামির এই অধিনায়ককে রেফারিদের কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারকারী একটি ভিডিও দ্বারা এই আলোচনাটি শুরু হয়। তবে, এ বিষয়ে অতি দ্রুত তদন্ত চালিয়ে এমএলএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, মেসি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।
বির্তকের মূল বিষয় ছিল ‘সিনতেসিস দেপোর্তেস’ নামক এক মাধ্যমের প্রকাশিত একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, হারের পর ক্ষুব্ধ মেসিকে তাঁর সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ একটি কক্ষে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে, সুয়ারেজের হাত থেকে মুক্তি নিয়ে মেসি ওই কক্ষে প্রবেশ করেন এবং কয়েক মুহূর্ত পরে আবার ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে আসেন। এই ভিডিওর উপর ভিত্তি করে অনেকেই দাবি করেন, মেসি রেফারিদের ওপর চড়াও হতে তাঁদের কক্ষে ঢুকেছিলেন।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে এমএলএস কর্তৃপক্ষ। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এর কাছ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওতে যে দরজাটি দেখা যাচ্ছে, সেটি আসলে রেফারিদের কক্ষ নয়। মেসি কোনো নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেননি এবং কোনো নিয়মও ভঙ্গ করেননি, ফলে তার বিরুদ্ধে কোনও শাস্তির প্রয়োজন হয়নি।
উল্লেখ্য, এমএলএসে রেফারিদের কক্ষে প্রবেশের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন। ২০২৩ সালে একই কারণে ফুটবলার ম্যাট মিয়াজগাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে, এই ঘটনায় মেসির জড়িত থাকার অভিযোগটি ভুল ব্যাখ্যার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। অতীতে, মেসি অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নেওয়ায় একবার নিষিদ্ধ হয়েছিলেন এবং নিয়মভঙ্গের জন্য জরিমানাও হয়েছিল। যদি এই ঘটনাটি সত্যপ্রমাণিত হয়, তবে তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত ছিল।
মাঠের লড়াইয়ে ইন্টার মিয়ামির জন্য মৌসুমের প্রথম ম্যাচটি খুবই হতাশাজনক ছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ৩-০ গোলে হেরে গেছে তারা, যা গতবারের চ্যাম্পিয়নদের জন্য একধরনের আঘাত। পরাজয়ের দুঃখ ও বিতর্ক পেছনে ফেলে, আগামী রবিবার নিজেদের মাঠে অরল্যান্ডো সিটির মুখোমুখি হবে মেসির দল। ভক্তরা আশাবাদী, মাঠের বাইরে এই বিতর্ক শেষ হওয়ার পর মেসি এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিয়েই খেলায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে পারবেন।





