মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর ঘোষণা: মুসলিম বিরোধী নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্য ও তার আশেপাশের দেশগুলোর সঙ্গে একযোগে মুসলিম বিরোধী নতুন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হল উগ্র অক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটি সমম্বয় তৈরি করা, যেখানে শিয়া ও সুন্নি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নেতানিয়াহু বলেন, এই জোটের জন্য একটি ছয় কোণবিশিষ্ট কাঠামো বা ‘হেক্সাগন’ তৈরি করা হবে, যেখানে বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং স্বার্থের দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরের সাথে মিলবে এমন দেশগুলো একত্রিত হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই জোটের মধ্যে থাকবে ইসরায়েল, ভারত, গ্রিস, সাইপ্রাস সহ কয়েকটি আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ, যদিও শব্দে স্পষ্ট করেননি প্রত্যেক দেশের নাম। নেতানিয়াহু মনে করেন, এই অক্ষের মধ্যে রয়েছে ‘উগ্র শিয়া অক্ষ’ ও ‘উদীয়মান উগ্র সুন্নি অক্ষ’, যেখানে শিয়াদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ইসরায়েল কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশ যেমন তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির দিকে যাচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন, আর সৌদি আরবও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। এর সঙ্গে, সম্প্রতি ইসরায়েল ও রিয়াদ সম্পর্কের মধ্যে চড়াই-উৎরাই চলছে। অন্যদিকে, ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েল আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য আবরাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অব্যাহত রয়েছে। তবে গাজায় ইসরায়েলের চালানো সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর থেকে এই অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেখানে এর প্রতিরোধ অক্ষ অর্থাৎ ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী শক্তিগুলো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বাইরেও, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

পোস্টটি শেয়ার করুন