মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ইরানের কঠোর লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ‘১৫ দিন’ এর আলটিমেটামের মুখে ইরান বিভিন্ন কূটনৈতিক এবং সামরিক কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশ্ব জুড়ে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর শীর্ষ স্থানগুলোতেও তেহরানের আলোচনার ঝড় বইছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ বা যুদ্ধ এড়ানোর জন্য এক চূড়ান্ত প্রচেষ্টা। এ খবর প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা একে একটি ‘অর্থবহ চুক্তিতে’ পৌঁছানোর জন্য নিশ্চিন্তে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় পাচ্ছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো সমাধান না হয়, তবে ‘ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারে’। এই হুমকির পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও যুদ্ধের প্রস্তুতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তেহরানের জন্য ট্রাম্পের এই সময়সীমা এবং সামরিক মহড়াগুলি অতীতে সংঘটিত সাবেক সংঘাতের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময়ও ট্রাম্প ওই সময়সীমা নির্দিষ্ট করেছিলেন, যেখানে এই সময়ের শেষের দিন বলিষ্ঠ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। যদিও দেশটির সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, বিশ্লেষকরা এ তুলনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করে থাকেন।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি সতর্ক করে বলেছেন, ‘সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব ঝুঁকি’ বর্তমান সময়ে ব্যাপক। তিনি আরও বলেন, যদি যেন কোনও হামলা হয়, তবে ইরান তার ‘চূড়ান্ত ও যথাযথ’ জবাব দেবে। এই পরিস্থিতিতে দাবি করেন, ইরানের সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ অবিলম্বে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জেনেভার মাধ্যমে মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পরোक्ष আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গেও পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত তিনি, যা ইরানের জন্য রাশিয়ার সমর্থন বড় লাভ। অভিযানেকক্ষেত্রে, সৌদি আরব ও মিসরেও তিনি আলোচনা করে চলছেন; কারণ এই দুটি দেশ চায় না যে এই অঞ্চলে আরেকটি যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ুক।

একই সঙ্গে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিছু না স্বীকার করলেও, ভেতরে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংকেত—কখনও আশাবাদী, কখনও হুমকি—এ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জেনেভায় যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধানের খসড়া প্রস্তুত হচ্ছে, সেখানে অন্যদিকে আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে নৌ মহড়া চালাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, যুদ্ধ শুরু হলে সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরाहের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ইরানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সংঘাত না ঘটানো, কিন্তু যদি হয়, তাহলে তার ব্যাপ্তি নিয়ন্ত্রণ করে পরিস্থিতির ওপর শাসন রক্ষা করা। এই পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘ঝুলন্ত তলোয়ার’ এর নিচে বসবাস করার মতো বলছেন।

ইরান একদিকে যেমন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সীমিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে, অন্যদিকে কোনো একান্ত আলটিমেটাম থাকলে মাথা নত না করে, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে অটল থাকার মন্ত্র নিয়েই এগোচ্ছে। কূটনৈতিক আলোচনায় নমনীয়তা দেখাচ্ছে, তবে যুদ্ধের ময়দানে শক্ত Prepare. এই দ্বৈত নীতি অনুসরণ করে চলেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র।

পোস্টটি শেয়ার করুন