খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের জামাতা এবং ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হয়েই তিন দিন পেরিয়ে গেছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিবার গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় আছেন এবং দ্রুত উদ্ধারের দাবি উঠেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কাজী নিজাম উদ্দিনের বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তিনি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর রাত প্রায় ৮টার দিকে তিনি নগরের পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে তারাবিহের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই মসজিদ থেকে বের হয়ে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়েই দেখা গেছে, কিন্তু এর পর তার কোনো সন্ধান মেলে না।
কাজী নিজাম ওই দিন মুঠোফোন বাসায় রেখে গিয়েছিলেন, ফলে নামাজের পর সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পরিবারের নেতারা আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজাখুজি করলেও বহু ক্যামেরা অচল থাকায় তাঁর পরবর্তী গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করা যায়নি। পরিবারের বিবেচনায় ঘটনাটি রহস্যজনক।
পরিবার সূত্রে জানানো হয়, ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয় এবং র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। পুলিশ তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে আশ্বাস দিলেও এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা বলেন, তার ছেলে সাধারণত শুধু ব্যবসা ও বাড়িতেই থাকেন, অন্য কোনো জায়গায় যাওয়ার অভ্যাস নেই। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতি পাওয়ার মতো পরিচিত একজনের কারণবিহীন নিখোঁজ হওয়া পরিবারকে আরও হতাশ করেছে। পরিবারের দাবি, নিজাম কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী নিজাম উদ্দিনের মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তানও উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ ও যুক্তিসঙ্গত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জোরপূর্বক তুলে নেয়া হয়েছে—এ রকম কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছি।’





