শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

তারল্য সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডকে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। সরকারি একটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র বলে, এই তহবিল ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহকদের নগদ উত্তোলনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির ক্যাশ ফ্লো লঘু হয়ে পড়েছিল এবং গ্রাহকদের সময়মতো অর্থ ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছিল। তাই ন্যাশনাল ব্যাংক অতিরিক্ত তারল্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সহায়তা আবেদন করে এবং তা মঞ্জুর হয়।

অধিকাংশের জ্ঞাতার্থে বলা হয়েছে, এ অর্থ ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডি-পিআই) নোটের বিপরীতে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, এমন সহায়তা সরবরাহ মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তাই নিরাপত্তা ও শর্তগত ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সময়োপযোগী সহায়তা না দিলে তা সমগ্র আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে জরুরি তারল্য সহায়তা না দিলে সেগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা সিস্টেমিক ঝুঁকি বাড়ায়। তিনি অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন—এই ধরনের সহায়তা নীতি সুদের ও মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক হতে পারে, তাই ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণে সাবধানতা প্রয়োজন।

এসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তাও বলেন, ঈদের আগে নগদচাহিদা বাড়ায় ব্যাংকটির নিজস্ব আমানত ও ঋণ আদায় করে ঘাটতি পূরণ সম্ভব হয়নি; ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সংকোচনমুখী অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে—যা মূল্যস্ফীতির চাপ সীমিত রাখতে নেওয়া একটি পদক্ষেপ।

ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, মালিকানা পরিবর্তন ও পরিচালনাগত ঝুঁকির মুখে ছিল। অতীতে.board-গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় তদারকি ও সহায়তা প্রয়োজন হয়েছে। সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সহায়তাটিও ঐ ধারারই একটি জরুরি পদক্ষেপ যাতে ঈদ উপলক্ষে গ্রাহকদের তাত্ক্ষণিক চাহিদা মেটানো ও বাজারে অস্থিরতা রোধ করা যায়।

পরিস্থিতি সামালে রাখা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় খবরজারি, তদারকি জোরদার এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি গতিশীল তহবিল পরিকল্পনার ওপর নজর রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতদিনের জন্য বা কি শর্তে অতিরিক্ত সহায়তা দেবে—এ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে তারা ভবিষ্যতে পুনরায় தகவ্য্াদি প্রকাশ করতে পারে।

পোস্টটি শেয়ার করুন