শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে দিল ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ঈদকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডকে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল দিয়েছে। গ্রাহকদের নগদ উত্তোলনের চাপ বাড়ায় ব্যাংকটি চলমান ক্যাশ ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন করলে যে তহবিল দেওয়া হয়েছে, তা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ওই তহবিল ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের মেয়াদে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলছেন, ঈদের আগে সাধারণত নগদ টাকার চাহিদা বাড়ে; এ বছরও একই কারণে অতিরিক্ত তরলতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক গ্রাহকদের অনিয়মিত নগদ প্রত্যাহার সামলাতে সমস্যায় পড়ছিল এবং আমানত সংগ্রহ ও ঋণ আদায় করে ঘাটতি মেটানো সম্ভব হচ্ছিল না—এ কারণেই তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা বলেন, তাত্ক্ষণিক ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

অন্য এক কর্মকর্তার বক্তব্যে বলা হয়েছে, অর্থটি ‘ডিমান্ড প্রমিসরি’ (ডিপি) নোটের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে। ডিপি নোট হলো একটি স্বল্প মেয়াদি দেউলিয়া নোট যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নির্দিষ্ট শর্তে نقدীকরণযোগ্য; তবে এধরণের তহবিল সরবরাহ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

মুদ্রানীতিতে বর্তমানে সংকোচনমূলক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারিত আছে। এ প্রেক্ষাপটে দুর্বল ব্যাঙ্কগুলোকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নীতির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিকতার সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে দরকারি সময় সহায়তা না করলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা সমগ্র আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে তিনি বলেন, এই সহায়তা যাতে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে তার ব্যাপারে সতর্ক ও সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।

ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও মালিকানা পরিবর্তনের প্রভাবে আর্থিক চাপে ছিল। অতীতেও পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সমস্যা মোকাবিলা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই ধরনের জরুরি সহায়তা কয়েকবার দিয়েছে এবং এই সহায়তাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে অর্থবাজার পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই তৎপরতায় আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করার চেষ্টা করলেও, নীতিনির্ধারকরা এখন দেখছেন—দ্রুত করা এই ব্যবস্থা কি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কার ও পুনর্গঠনের সঙ্গে মিলবে কী না। পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন মোতাবেক আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন