রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমির: জাতীয় নির্বাচনের পরে স্থানীয় সরকারের জন্য শুরু হবে দ্বিতীয় লড়াই

জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান দলের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে দ্বিতীয় বড় রাজনৈতিক লড়াই; তাই মাঠে এক ইঞ্চিও ফাঁকা রাখা যাবে না।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটে এক কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যারা ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, স্থানীয় স্তরে তাদেরই সুযোগ করে দিয়ে যোগ্য নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগী ও দায়িত্বশীল হতে সতর্ক করে বলেন, মাঠে সক্রিয়তা বাড়াতে না পারলে দলের উপযোগী নেতৃত্ব গড়ে তোলা কঠিন হবে।

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জামায়াত তাদের ন্যায্য প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাকর্মীরা তাঁকে জানিয়েছেন যে দল পরাজিত হয়নি, বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি আছে।

সংসদীয় রাজনীতিতে এবার জামায়াত যে সফলতা পেয়েছে, তা তিনটি মূল দিক তুলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। প্রথমত, নেতৃত্বের নীচে অর্থবহ ঐক্য গড়ে উঠেছে; দ্বিতীয়ত, তারা প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে; তৃতীয়ত, একযোগে ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে দলকে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ত্রুটিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পর্কে টিআইবি ও সুজনসহ বিভিন্ন সংগঠনেরও অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

ঢাকার বস্তি এলাকায় নির্বাচনী সময়ে দেয়া বড় প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। টাকা, ওয়াদা বা সন্ত্রাস—এসব কোনো কিছুই কাজ করেনি; এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশের দর্শন স্পষ্ট করেছে এবং তারা থামবেন না বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠান শেষে নগরের বন্দরবাজারের কুদরত উল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন বিষয়ে তিনি তাত্ক্ষণিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেও জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি; দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন হবে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি সরকারের প্রতি আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন যে, সরকারি দলের কেউ যেন অপরাধীদের পক্ষ না নেয়। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে অপরাধ দমন সম্ভব এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করলে জামায়াতও সহযোগিতা করবে, যোগ করেছেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।

পোস্টটি শেয়ার করুন