বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয়ে ট্রাক্টরের চাপায় শিক্ষক নিহত; এলাকায় বিক্ষোভ ও ইটভাটায় অগ্নিসংযোগ

নওগাঁর কীর্ত্তিপুরে ট্রাক্টরের চাপায় এক প্রাইভেট শিক্ষক নিহত হওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ এবং ইটভাটায় অগ্নিসংযোগ করেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কাদিমপুর এলাকায় ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

নিহত শিক্ষক রিমন হোসেন (৩০) কীর্ত্তিপুর গ্রামের শাহীন হোসেনের ছেলে এবং এক কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, তিনি প্রাইভেট পড়ানোর কাজে মোটরসাইকেলে করে আড়চা গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথের কাদিমপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা বিবিসি ইটভাটার মাটি পরিবহনের কাজের একটি ট্রাক্টর তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই রিমন মারা যান।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে নওগাঁ–বদলগাছী আঞ্চলিক মহাসড়কের কীর্ত্তিপুর গ্রামের শশীর মোড় ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা বিবিসি ইটভাটায় গিয়ে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক্টর এবং একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিনে আগুন ধরে দেয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে ইটভাটা বন্ধের দাবি জানায়।

পরে সদর উপজেলায় নিয়োজিত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কর্তৃপক্ষ ইটভাটা ভেঙে দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও ইটভাটার কর্মীরা মিলে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভায়।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মুশফিকুর রহমান জানান, ট্রাক্টরের চাপায় রিমন হোসেন মারা যান। ট্রাক্টরটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পালিয়ে গেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনার অভিযোগভিত্তিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার এবং যাঁরা দায়ী তাদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন