বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে জামায়াত বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদ ও তৎপরবর্তী সামরিক হামলার নিন্দায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তরের গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সভায় দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, ইরানে হামলা অবিলম্বে না বন্ধ হলে জামায়াত আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম জাতিকে ইসরায়েলি পণ্যের বয়কট করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘটিত এমন বর্বরোচিত হামলা গণতন্ত্রবিরোধী এবং অমানবিক। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবেলায় এসব সংস্থার অন্যাসীনতা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। বিশ্বশান্তি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের প্রতি সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার ওপর জোর দেন।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বে এই ধরনের আগ্রাসন থামাতে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার ঘটনার বিবেচনায় রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দাও ব্যক্ত করা হয়। মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি মুসলিম দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে এবং খামেনির হত্যাকাণ্ড কেবল ইরানের ক্ষতি নয়, পুরো মুসলিম উম্মাহর উপর একটি গুরুতর আঘাত। لذلك তারা মুসলিম নেতৃবৃন্দকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেয়া জামায়াত কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নানান স্লোগান দেন এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার অঙ্গীকার জানান।

পোস্টটি শেয়ার করুন