শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রানের বন্যায় ভারত, বেথেলের সেঞ্চুরি কাজে আসলো না — ফাইনালে ভারত

মুম্বাইয়ে নাটকীয় ম্যাচে ২৫৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৪৬/৭ করে থেমে যায়। ফলে ৭ রানের ব্যবধানে জয় তুলে ফিল ভারত, এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল তারা।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দুই দলের মধ্যে রানের বন্যা বইছিল—তবু জ্যাকব বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরিও ইংল্যান্ডকে জিতাতে পারল না। ২২ বছর বয়সী বেথেল মাত্র ৪৮ বল খেলেন, ৮ চার ও ৭ ছক্কায় দুর্দান্ত ১০৫ রান করেন। শেষ ওভারের প্রথম বলে দ্রুত দুই রানের চেষ্টায় রান আউট হওয়া পর্যন্ত তিনি দলের জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন।

ইংল্যান্ডের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না; দ্রুতই চাপে পড়ে তারা। দলীয় ১৩ রানে ফিল সল্ট ফেরেন শুধুমাত্র ৫ রানে। ৩৮ রানে আউট হন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক (৭) এবং এরপর জস বাটলার ১৭ বল খেলে ২৫ রানে ব্যাটিং শেষ করেন।

চতুর্থ উইকেটে টম ব্যান্টনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বেথেল। ব্যান্টন ৫ বল খেলে ১৭ রান করে আউট হলেও পরে উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে বেথেল আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে দ্রুত ইনিংস সামলে নেন। মাত্র ৬.৩ ওভারে বেথেল ও জ্যাকস যোগ করেন ৭৭ রান। জ্যাকস ২০ বলে ৩৬ রান করে ফিরলে আবারও স্যাম কারানকে নিয়ে চাপ তৈরি করেন বেথেল।

হার্দিক পান্ডিয়াকে ছক্কা মেরে ৪৫ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন বেথেল। কিন্তু পরের ওভারেই প্রথম বলেই দ্রুত দুই রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি—এ ঘটনায় ইংল্যান্ডের জয়ের পথ বড়ভাবে সংকুচিত হয়। ম্যাচের শেষ দিকে জফরা আর্চার ৪ বলে ৩ ছক্কায় ১৮ রান করে ব্যবধানটা কিছুটা কমালেও তা যথেষ্ট ছিল না।

ভারতের হয়ে হার্দিক পান্ডিয়া ৩৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। কঠিন সময়ে জাসপ্রিত বুমরাহর নিয়ন্ত্রিত বোলিংও দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান সংগ্রহ করে। সাঞ্জু স্যামসন ৪২ বল খেলে ঝড়ো ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। ইশান কিশান ১৮ বলে ৩৯ এবং শিবাম দুবে ২৫ বলে ৪৩ রান যোগ করেন। শেষ দিকে হার্দিক পান্ডিয়া ১২ বলে ২৭ ও তিলক ভার্মা ৭ বলে ২১ রান যোগ করে দলের স্কোর গড়েন।

দুই দলের ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে মোট ৪৯৯ রান হয়েছে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড হিসেবে ধরা পড়েছে।

আগামী ৮ মার্চ আহমেদাবাদে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর—

ভারত: ২৫৩/৭ (২০ ওভার) – সঞ্জু স্যামসন ৮৯, শিবম দুবে ৪৩; উইল জ্যাকস ২/৪০

ইংল্যান্ড: ২৪৬/৭ (২০ ওভার) – জ্যাকব বেথেল ১০৫, উইল জ্যাকস ৩৫; হার্দিক পান্ডিয়া ২/৩৮

ফলাফল: ভারত ৭ রানে জয়ী।

পোস্টটি শেয়ার করুন