মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির তীব্রতা বাড়ার পর এবং দুবাই বিমানবন্দরের ওপর থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এমিরেটস এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি তাদের সব উড্ডয়ন ও অবতরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে কোনো বিমান উড্ডয়ন করবে না এবং কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও সেখানে অবতরণ করবে না বলে জানানো হয়েছে। এ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে এমিরেটস যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
এয়ারলাইন্সটি যাত্রীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে যে কেউই চলতি পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করবেন না। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিমানবন্দরের নিয়মিত কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রয়েছে এবং শহরের মধ্যে থাকা চেক-ইন সুবিধাগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রকাশিত সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এমিরেটস বলেছে, ‘‘উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আমরা পরিস্থিতি মনিটর করে পরবর্তী আপডেট দেব।’’
অপ্রত্যাশিত এই স্থগিতাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের উপশমে এমিরেটস বিশেষ রি-বুকিং ও রিফান্ড নীতির ঘোষণা দিয়েছে। যারা ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে টিকিট কেটেছিলেন, তারা চাইলে কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই তাদের যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। বিকল্প হিসেবে আগামী ৩০ এপ্রিল বা তার আগের যেকোনো তারিখে নতুন ফ্লাইটে বিনামূল্যে বুকিং নেওয়া যাবে। সরাসরি এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কেনা যাত্রীদের এমিরেটসের কাস্টমার সাপোর্ট চ্যানেলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেটেছেন তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, দুবাই বিমানবন্দরের ওপর থেকে বিস্ফোরণের খবর এই অঞ্চলের বায়ুচালনার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট হাব হিসাবে দুবাই বন্ধ থাকায় এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার মধ্যে বহু মূল রুট প্রভাবিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে বিমানবন্দর ও সংস্থাসমূহ তৎপরভাবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় চলছে। এমিরেটস জানিয়েছেন, আকাশপথ সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এ অচলাবস্থা চলবে—এমনটাই তাদের প্রত্যাশা। বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতে এই পরিস্থিতি তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং পরবর্তী ঘোষণা আসা পর্যন্ত অধিকাংশ যাত্রী ও এয়ারলাইন অপারেশন অনিশ্চিত থাকবে।
সংগঠনের পর্যবেক্ষকরা এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে; যাত্রীদের দ্রুততম সময়ে আপডেট জানানো হবে বলেও কোম্পানি আশ্বাস দিয়েছে।





