মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সকালে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে খুব শিগগিরই কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সিএনএনের উপস্থাপক ডানা ব্যাশের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দেন এবং কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সফলতার কথাও উত্থাপন করে বলেন, কিউবা বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে আছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো না কোনো চুক্তি করতে অনড় হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ‘‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়, তাই আমি মার্কোকে সেখানের দায়িত্ব দেব। তারপর দেখব শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।’’
ট্রাম্প এখানে যে ‘মার্কো’য়ের কথা বলেছেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। রুবিও কিউবান বংশোদ্ভূত বলে ট্রাম্প বলেন, এই ইস্যুটি তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তাঁর প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার এখনও ইরান।
এর আগেও বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প কিউবা সম্পর্কিত তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আভাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের নিজ জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া ‘‘শুধু সময়ের ব্যাপার’’। তিনি রুবিওকে প্রশংসা করে জানিয়েছেন, রুবিও ইরান ইস্যু শেষ হতেই কিউবার ব্যাপারে কাজ শুরু করতে চান।
ট্রাম্প একাধিক ফ্রন্টে একই সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার কৌশলগত যুক্তিও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ইচ্ছে থাকলে অনেক কিছু একসঙ্গে শুরু করা যেত, তবে দ্রুত তৎপরতা অনেক সময় হানিকর হতে পারে—ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিয়ে ধাপে ধাপে এজেন্ডা বাস্তবায়নের ওপর সরকার জোর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলোকে কিউবার শাসক দলের ওপর কড়া কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাবনা—মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত মিটলে ওয়াশিংটন কিউবার দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে। ট্রাম্পের ভাষণের ফলে ওই দ্বীপরাষ্ট্রে আরও геopolitical অস্থিরতার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।





