শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর: মেলবোর্নে রাজপরিবার ও কিংবদন্তিদের আমন্ত্রণ

টেস্ট ক্রিকেটের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেলবোর্নে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এতে ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয়সহ রাজপরিবারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিকেটের বহু কিংবদন্তিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে এই মাইলফলকটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা যায়।

টেস্ট খেলাগ্রস্থ ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল ১৮৭৭ সালের ১৫–১৯ মার্চ, যখন মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে ২০২৭ সালের ১১–১৫ মার্চ এমসিজিতে অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড একটি বিশেষ দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এই উৎসবে ১৯৭৭ সালের শতবর্ষী টেস্টে খেলায় থাকা সকল খেলোয়াড়কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেন, রাজা বা রাজপরিবারের কোনো প্রতিনিধি এই আয়োজনে উপস্থিত থাকলে সেটি তাদের কাছে বিশাল সম্মানের বিষয় হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বর্তমানে অনেক টেস্ট ম্যাচ পুরো পাঁচ দিন দীর্ঘ হয় না; তাই রাজকীয় সফর ম্যাচের শেষ পর্যায়ের বদলে শুরুতেই রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এবার মেলবোর্নে পুরুষ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির টেস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে ব্যালট পদ্ধতিতে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং বড় অংশই প্রথম তিন দিনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

উৎসবটি স্মরণীয় করে তোলার জন্য এবং টেস্ট ক্রিকেটের স্থায়ী প্রতিপত্তি উদযাপন করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিনোদন ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমও থাকবে, বলে গ্রিনবার্গ জানান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের সম্মান জানানো হবে, কারণ তাদেরাই টেস্ট ক্রিকেটকে এক দারুণ ও সময়হীন মঞ্চে পরিণত করেছেন।

আইসিসির হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত জীবিত নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি দুই দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং অন্যান্য সাবেক টেস্ট খেলোয়াড়দেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে এই মিলনমেলায় বিশ্বের ক্রিকেট পরিবারটি একসঙ্গে উপস্থিত থাকতে পারে। মেলবোর্নের এই উদযাপন ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ—দুটোকেই তুলে ধরবে বলে আয়োজকরা মনে করছে।

আয়োজকরা বিশ্ব ক্রিকেট পরিবারের সবাইকে মেলবোর্নে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, এবং তারা আশা করছে যে এই বিশেষ টেস্ট ম্যাচটি টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন