বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে — ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারে — জমকালো পরিবেশে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে। রেড কার্পেট থেকে স্টেজ রয় পর্যন্ত ছিল বিখ্যাত মুখেদের ভিড় এবং উৎসবের আমেজ। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল পরিচালক পল থমাস অ্যান্ডারসনের অ্যাকশন-থ্রিলার ‘‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’’, যা মোট ছয়টি প্রধান শাখায় অস্কার জিতে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছে। ছবিটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালক ও সেরা অ্যাডাপ্টেড চিত্রনাট্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারগুলোতে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং অ্যান্ডারসনের জন্য এটি বহু বছরের পর প্রথম অস্কারের উল্লাসবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবার সেরা অভিনেতার খেতাব জিতে নিয়েছেন জনপ্রিয় তারকা মাইকেল বি. জর্ডান। ‘‘সিনার্স’’ ছবিতে যমজ চরিত্র স্মোক ও স্ট্যাকের জটিল মাত্রা ফুটিয়ে তোলা তাঁর অভিনয়কে অ্যাকাডেমি স্বীকৃতি দিয়েছে। পুরস্কার গ্রহণের সময় তাঁর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ও সহকর্মী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওও। সেরা অভিনেত্রীর খেতাব জেসি বাকলির নাম জুড়ে; ‘‘হ্যামনেট’’-এ তাঁর শক্তিশালী ও আবেগঘন অভিনয় এই সম্মান এনে দিয়েছে। এই দুই অভিনয়শিল্পীর পারফরম্যান্স পুরো অনুষ্ঠানটিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
পার্শ্বচরিত্র বিভাগের পুরস্কারগুলোতেও চমক ছিল। ‘‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’’-এ অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্য সেরা পার্শ্বঅভিনেতার মর্যাদা পেয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা শন পেন। আর ‘‘ওয়েপনস’’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্বঅভিনেত্রীর সম্মাননা পেয়েছেন এমি ম্যাডিগান।
এবারের আসরের বিশেষ এক মুহূর্ত ছিল সিনেমাটোগ্রাফি বিভাগে—‘‘সিনার্স’’-এর জন্য অটাম ডুরাল্ড আরকাপাও সেরা সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে অ্যাকাডেমি অস্কার জিতেছেন এবং দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম নারী সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে এই গৌরব অর্জন করে চলচ্চিত্র জগতে নারীদের অগ্রযাত্রার নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছেন।
অ্যানিমেটেড ফিচারে সেরা হয়েছে ‘‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’’; একই ছবিটির ‘‘গোল্ডেন’’ নামের গানটির জন্যও সেরা মৌলিক গানটির অস্কার ওঠেছে, ফলে ছবিটি দ্বৈত সাফল্য অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে নরওয়ের ‘‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’’—এটি নরওয়েজিয়ান সিনেমার সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছে।
কারিগরি ও শৈল্পিক বিভাগে ‘‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’’ ছবিটি কস্টিউম ডিজাইন, মেকআপ ও হেয়ারস্টাইলিং এবং প্রোডাকশন ডিজাইনের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতেছে। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসে আবারও দাপট দেখিয়েছে জেমস ক্যামেরনের ‘‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’’. তথ্যচিত্র বিভাগে সেরা হয়েছে ‘‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’’ এবং সাউন্ড বিভাগে সেরার খেতাব পেয়েছে রেসিং ড্রামা ‘‘এফ১’।
লাইভ অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম বিভাগে এবার এক বিরল দৃশ্য দেখা গেল—‘‘দ্য সিঙ্গার্স’’ ও ‘‘টু পিপল এক্সচেঞ্জিং সালাইভা’’ দুইটি শর্ট ফিল্মকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বদের স্মরণে আবেগঘন একটি সেগমেন্ট আয়োজন করা হয়, যেখানে বিলি ক্রিস্টাল বিশেষভাবে নির্মাতা রব রেইনারের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সব মিলিয়ে ৯৮তম অস্কার ছিল নতুন প্রতিভিদের উত্থান, পরিচিত নামদের কীর্তি এবং চলচ্চিত্রশিল্পের বিভিন্ন শাখায় শ্রেষ্ঠত্বের এক সমাহার — এক কালজয়ী সন্ধ্যা যেখানে ইতিহাস কিছুটা লিখে দেয়া হলো আবার কিছু জারিত হলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।





