বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে ১০ ‘বিদেশি গুপ্তচর’ গ্রেফতার: আইআরজিসির গোয়েন্দা অভিযান

ইরানের প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজাভি খোরাসান প্রদেশে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে ১০ জন ‘বিদেশি গুপ্তচর’কে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই খবরটি মঙ্গলবার ইরানের বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির এক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই প্রকাশ করা হয়।

আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আটককৃতদের ‘ভাড়াটে’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পরিচয় এবং নাশকতামূলক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত ১০ জনের মধ্যে চারজন ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামোর গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। গোয়েন্দারা তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে বাকি ছয়জন একটি ‘রাজতন্ত্রপন্থী সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে দেশবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। যদিও আটককৃতদের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো বিশদ তথ্য দেওয়া হয়নি, আইআরজিসি তাদের কর্মকাণ্ডকে বিদেশী শক্তির সহায়তাপুষ্ট ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই গ্রেফতারের সংবাদটি সেই সময় এসেছে যখন ইরান একটি তীব্র সামরিক সংকটের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। আইআরজিসি এবং সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ কয়েকজন নেতাসহ বেশ কিছু সামরিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হন এবং বর্তমানে মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন—যেমনটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন থেকেই জানা গেছে।

বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, এই চক্রটি অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মানচিত্র ও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। রাজাভি খোরাসান প্রদেশে তাদের কর্মকাণ্ড ধরা পড়ায় বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসেস শুরু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারে তা খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত চলমান রয়েছে। আইআরজিসি বলছে, সামরিক সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি ইরান বর্তমানে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা যুদ্ধ মোকাবিলায়ও জোর দিচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন