মেহেরপুরের গাংনীতে জ্বালানি তেলের অনিশ্চয়তার মাঝে সাধারণ মানুষ কষ্টে পড়েছেন। গ্রাহকরা জানাচ্ছেন—চাহিদার তুলনায় পেট্রল, ডিজেল ও অকটেন মিলছে না; কেউ বলছেন এটি কৃত্রিম সংকট, অনেকে বলছেন জাতীয় প্রয়োজনের সংকট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তদারকির আরও জোর গুনে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। অনেক স্থানে পাম্প পুরোপুরি বন্ধ ছিল। অনেক চালক বলতে বাধ্য হয়েছেন মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল পেতেই হয়েছে, তাতে দৈনন্দিন চলাচল চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
লাইনে থাকা ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন পরিচিতি-নেমে কারা যেন তুলনামূলকভাবে বেশি তেল পাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছে, বর্তমান সময়ে সড়কে সঞ্চালনের জন্য মোটরসাইকেল সবচেয়ে জরুরি ব্যক্তিগত যান; কিন্তু তেল না পেয়ে চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
বামন্দীর কিবরীয়া ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা আসিফ জানান, ‘‘দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ১০০ টাকার তেল পেয়েছি। এমন অস্থিতিশীলতার মধ্যে সারাদিনের কাজকর্ম কিভাবে চালাবো বুঝি না।’’
কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে এসে দেখা-সাক্ষাৎ পাওয়া জামিল হোসেন বলেন, ‘‘গত দু’দিন পাম্প বন্ধ ছিল; আজ তেল দিলেই অনেকেই এসে ভিড় করেছে—অনেকটাই দমবন্ধ করা দৃশ্য। পাম্পে ৩–৪শ মোটরসাইকেল লাইনে ছিল, তবু এক ব্যক্তিকে একশ’র বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।’’
কৃষক জমির উদ্দিন সমস্যাটা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘‘চাষাবাদের জন্য সেচ সরবরাহের তেলের প্রয়োজন। যদি তেল নিতে গিয়েই দিন চলে যায় তাহলে আমরা কীভাবে মাঠে কাজ করব—ফসলের ক্ষতি হবে।’’
স্থানীয়রা অনেকে চাইছেন প্রশাসন তেল মজুত ও সরবরাহ খতিয়ে দেখুক; কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে কি না তা স্পষ্ট করে দিক বলে দাবি করেছেন।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাখাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘‘যেসব পাম্পে তেল আছে বলে মনে হয় অথচ তবেই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃত্রিম সংকট তৈরিকারীদের কোনো ছাড় থাকবে না।’’
বর্তমান অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক এবং জোরালো তদারকির দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন চলাচলে অতিরিক্ত ভোগান্তির সম্মুখীন না হন।





