বার্সেলোনার প্রসিদ্ধ লা মাসিয়া একাডেমির জাঁকজমক দেখার স্বপ্ন বোনা নরসিংদীর কিশোর মেহেদী হাসান রিদম। লিওনেল মেসি বা লামিনে ইয়ামালের মতো নতুন প্রজন্মের তারকার কেরিয়ার উদাহরণ দেখে ফুটবলের শিখরে পৌঁছানোর লক্ষ্য ঠিক করে ইতালির রোমে পাড়ি দিয়েছেন এই তরুণ প্রতিভা।
রায়পুরার এই ফুটবলার বর্তমানে রোমের অপেশাদার ক্লাব সেক্সা ফ্লামিনিয়া লাবারোর হয়ে নিয়মিত খেলছেন ও নিজেদের দক্ষতা শানিয়ে নিচ্ছেন। তার দিকে হঠাৎই নজর পড়েনি—তাঁর লক্ষ্য এখন বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক ‘একাডেমি ওয়ার্ল্ড কাপ’, যেখানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্লাব ও একাডেমির উজ্জ্বল প্রজন্ম অংশগ্রহণ করে।
এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রতিভাবানদের সরাসরি লা মাসিয়ায় আনার সুযোগ মেলে। রিদম মনোনীত হয়েছেন লুক্সেমবার্গ দলের হয়ে অংশ নিতে—অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে ওই দলের একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মাঠে নামার কথা। টুর্নামেন্টে ইতালি, বেলজিয়াম, ফ্রান্সসহ বহু শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দল অংশ নিচ্ছে।
রিদমের বাবা আসাদ মিয়া জানিয়েছেন, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগাম একটি চুক্তি আছে। টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স দেখালে লা মাসিয়া একাডেমিতে রেখে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে রিদম সতেওয়ায়িত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি ইতালিয়ান কোচ মাসিমিলিয়ানো কোলেত্তার তত্ত্বাবধানে ও ব্যক্তিগত মরক্কান কোচের সহায়তায় নিয়মিত অনুশীলন করছেন। পাশাপাশি একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে খাদ্যাভ্যাস ও ফিটনেস বজায় রাখছেন—ফুটবলের উচ্চমাত্রার প্রস্তুতিই এখন তার দিনরাত্রি।
রিদম নিজে আত্মবিশ্বাসী। পরিবারেও উত্তেজনা ও প্রত্যাশা রয়েছে; সবাই আশা করছেন তার পারফরম্যান্স স্পেনে বার্সেলোনার নজরে পড়বে। যদিও ইতালিতেই বড় হন, দেশের প্রতি তার টান ম্লান হয়নি। বাবা বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা নিয়ে তারা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।
অবশ্য সবকিছু নির্ভর করছে রিদমের মাথা ঠান্ডা রাখা, ময়দানে কাজের ফল ও সুযোগের উপর। আপাতত তিনি স্পেনের মাটিতে নিজের খেলা দেখিয়ে লা মাসিয়ার কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ার লক্ষ্যে মনোযোগী। রায়পুরার ছোট্ট মাঠ থেকে শুরু হওয়া এই স্বপ্নযাত্রা যে ফুটা দিয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছবে—তাতে নড়বড়ে বিশ্বাস নেই মেহেদী রিদম ও তার পরিবার।





