সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কালের আগেই খাল কেটে কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করেছিলেন এবং সেই উদ্যোগ এখনও কৃষকদের মনে গভীরভাবে টিকে আছে। তিনি বললেন, ‘‘সেই খালকাটার সুফলই এ দেশের কৃষকরা ভোগ করে আসছেন।’’
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদী-নালা, খাল-বিল এবং পুকুর-জলাশয় নানা ধরনের মানুষের দখলে পড়ে পলি জমে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এসব জলাধার পুনরুদ্ধার করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে পুনঃখননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কয়েকদিনে বিভিন্ন স্থানে খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে এবং বেদখল হওয়া খালগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কৃষকদের বিনা ভোগান্তিতে কৃষিকাজ চালাতে সহায়তা করতে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে দেশে কৃষি কার্ড চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে আপাতত দেশের ১০টি জেলায় কৃষি কার্ড দেয়া হবে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন সেই তালিকার একটি। ওই ইউনিয়নে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে কৃষি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করে কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার, ১০টি ইউনিয়নের প্রি-পাইলটিং কর্মসূচি হিসেবে কৃষক কার্ড প্রবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। রাজবাড়ীর দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১১ তারিখে কার্যক্রম উদ্বোধন করে ইতোমধ্যেই ১,০৩৫ জন কৃষকের জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তাদের অনলাইন তথ্য রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে। উনি বললেন, ‘‘আগামী ১৪ এপ্রিল এই কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।’’
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, এখানে বড়, মাঝারি, প্রান্তিক, দুর্যোগ-আবদ্ধ এবং ভূমিহীন—মোট পাঁচ ধরণের কৃষককে লক্ষ্য করে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা সহজে পাবে, যেমন সার-বীজ বরাদ্দ, কৃষি পরামর্শ ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা।
উপস্থিত ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লাসহ বিভিন্ন ইউনিটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।





