রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেল তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড ১৪-৪৯০৩)। বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাটের পন্টুনে এ ঘটনা ঘটে।
ট্রাকের চালক মোখলেস হাওলাদার জানান, তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে তরমুজ নিয়ে বের হয়ে গাজিপুরের বাইপাইলের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন দুইজন মালিক এবং এক আত্মীয়। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের ঢালু বাইপাস সড়ক ব্যবহার করে ফেরিতে উঠার সময় হঠাৎ ট্রাকটির হাইড্রোলিক ব্রেকের পাইপ ফেটে যায়; ফলে তিনি গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারান।
সৌভাগ্যবশত ট্রাকটি সরাসরি নদীতে না গিয়ে পন্টুনের বাইরের ওঠানো অংশে ধাক্কা লেগে আটকে যায় এবং এক্সেল ভেঙে ট্রাকের গতিবিধি থমকে যায়। এই কারণে চালকসহ তিনজনই দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হননি এবং প্রাণে রক্ষা পান।
তরমুজের মালিক ফয়সাল জানান, তাদের মাঠের ১,৭০০ পিস তরমুজ লোড করে তারা ভাতিজা আরিফকে নিয়ে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। ট্রাক ভাড়া হিসেবে তিনি আগে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সবাই মিলে দুশ্চিন্তা করলেও আল্লাহর কৃপায় মানুষ ও তরমুজ উভয়ই সুরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান। তবে ট্রাক উদ্ধারে অতিরিক্তভাবে খরচ বড় হচ্ছে — তাদের রেকারের ভাড়া ৪,৮০০ টাকা, আলাদা ট্রাক ভাড়া ১০,৫০০ টাকা এবং লেবর খরচ ৪,০০০ টাকা হলে মোট প্রায় ১৯,৩০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তিনি মনে করেন ট্রাকটির ইঞ্জিন আগে থেকেই দুর্বল ছিল, সেটিও দুর্ঘটনার একটা কারণ হতে পারে।
৭ নং ফেরিঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল সহকারী কাজী নবীন বলেন, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলেও এতে ফেরিতে যানবাহন ওঠা-নামায় কোন তৎক্ষণাত বাধা দেখা দিচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি উদ্ধারের কাজ তাদের নিজস্ব রেকার দিয়ে চলছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন জানান, প্রথমে ট্রাক থেকে তরমুজগুলো নামিয়ে নেয়া হবে, এরপর তাদের রেকার দিয়ে ট্রাকটিকে পন্টুনের ওপরে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই রেকার সেবা ঘণ্টাপ্রতি ৪,৮০০ টাকা হিসেবে ধার্য করা আছে।





