শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে মালয়েশীয় জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ অনুমতি দিল

তেহরান ও ওয়াশিংটন-তেল আবিবের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেই ইরান মালয়েশীয় জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রদত্ত এক বক্তব্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই তথ্য জানান।

আনোয়ার বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁদের জাহাজগুলোকে হরমুজ দিয়ে যেতে “দ্রুত ছাড়পত্র” দিয়েছেন এবং এ কারণে তিনি প্রেসিডেন্টকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তেহরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সাধারণ জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে; হরমুজ প্রণালী বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

মালয়েশিয়া সরকারের তরফে আনোয়ার আরও জানান যে, তেলবাহী ট্যাংকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ চলছে। তবে কতটি জাহাজ অনুমতি পেয়েছে কিংবা কোনো বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। সাধারণত আন্তর্জাতিক বিষয়ে নিরপেক্ষ নীতিতে থাকা মালয়েশিয়া থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখনই পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের প্রভাব নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার কারণে মালয়েশিয়াও প্রভাবিত হয়েছে, তবে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দেশটি অনেকের তুলনায় comparatively ভালো রয়েছে। তবু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতার ফলে মালয়েশিয়া তাদের কাঁচা তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানি করে, যা ঝুঁকি বাড়ায়।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় মালয়েশিয়া সরকার কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিবেচনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ভর্তুকিযুক্ত পেট্রলের ব্যক্তিগত বরাদ্দ হ্রাস এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যায়ক্রমে বাসা থেকে কাজ করার ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা। আনোয়ার সতর্ক করে বলেন, খাদ্য ও সার-জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে, কিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন; যদিও অনেক দেশ আছে যেগুলো মালয়েশিয়াতির চেয়ে এই সংঘাত থেকে বেশিokratিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত বা সংশ্লিষ্টতা জড়িত নয় এমন জাহাজগুলোর জন্য এই পথ খুলে রাখা হয়েছে, যদিও তেহরান সেই জলপথে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে রাজি। এদিকে ইরানের সংসদে হরমুজ প্রণালিতে টোলনীতি চালুর প্রস্তাবিত একটি আইনও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগে বলা হয়েছে অনেকে নিরাপত্তা নিশ্চত করার নামে জাহাজদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছে। সামুদ্রিক পর্যবেক্ষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতের আগে দিনে গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যেত, কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন