টাঙ্গাইলে ট্রেন ধাক্কায় মা-ছেলে সহ পাঁচ জন নিহতের মরদেহ শনিবার (২৮ মার্চ) ভোররাত আইনি প্রক্রিয়া শেষে আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দুপুরে জানাজা শেষে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কবরস্থ করবেন।
ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায়। ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে একটি যাত্রীবাহী বাসের জ্বালানি তেল শেষ হওয়ায় চালক ও হেলপার তেল আনতে গেলে বাসটি রেললাইনের কাছেই থেমে পড়ে। রেল লাইনের পাশে গরমে ক্লান্ত several যাত্রীরা বাস থেকে নামতে থাকেন এবং লাইনের উপর বসে বিশ্রাম নিতে থাকেন।
সেই সময় টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ওই অংশ পার হওয়ার সময় লাইনে বসে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলেই মা-ছেলে সহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস, তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরব, নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা, একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান এবং আব্দুর রশিদের কন্যা রিফা আক্তার।
পোস্ট-ঈদ সুবিধার্থে গাইবান্ধা থেকে ঢাকার গাজীপুরে ফিরে যাওয়ার পথে তারা এ দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহতদের বেশিরভাগই তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের ঘারিঙ্গা রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, বাসের তেল শেষ হওয়ায় যাত্রীরা লাইনে বসে থাকায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভোররাত চারটার দিকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে এবং প্রতিটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেয়।
নিহত রিফা আক্তারের বড় ভাই আব্দুল মোমিন নিশ্চিত করেছেন যে তারা সকালেই মৃতদেহগুলো নিয়ে গ্রামে পৌঁছেন এবং পরিবারের সদস্যরা শোকে স্তব্ধ। সাদুল্লাপুরের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শাহাদত হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেতেই স্বজনরা রাতেই টাঙ্গাইলে যাত্রা করেন এবং সকালে মরদেহগুলো নিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরিবার ও গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তমত বাদ জোহর জানাজা শেষে আজই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দিকগুলো তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানানো হচ্ছে এবং স্থানীয় জনজীবনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।





