বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আইনি জটিলতা অবসান ঘটেছে। সরকার এখন বলছে যে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে আইপিএল দেখানোতে আর কোনো সরকারি বাধা থাকবে না, ফলে দর্শকরা দ্রুতই খেলার সরাসরি সম্প্রচার উপভোগ করতে পারবেন।
ঘটনাপ্রবাহটি মূলত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের একটি সিদ্ধান্তের পর থেকে জটিল হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও ক্রিকেট সম্পর্কিত নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছিল, যাকে কেন্দ্র করে আইপিএল সম্প্রচার সীমিত থাকার নির্দেশনা জারি হয়েছিল। বর্তমানে দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন সরকার ক্রীড়া ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিককরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সরকার খেলাধুলাকে রাজনীতির সঙ্গে মিশিয়ে দেখতে চায় না। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত আইপিএল সম্প্রচারের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন তাদের কাছে আসেনি, কিন্তু যদি কোনো দেশি বা বিদেশি চ্যানেল এই লিগটি সম্প্রচার করতে চায়, সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে স্টার স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক চ্যানেলের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
জরুরি কারণে আইপিএলের ওপর আগে যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তা কার্যকর নয় বলেও সরকারি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্প্রচারের জট খুলতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়েরএই মনোভাবকে দেশের ক্রীড়াপ্রেমী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাগত জানিয়েছে।
কেবল অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-ও আইপিএল সম্প্রচারের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে। সংগঠনের সেক্রেটারি রেজাউল করিম লাবু বলেন, সরকারের তরফে কোনো নেতিবাচক নির্দেশনা না থাকায় তারা স্টার স্পোর্টস বা অন্যান্য চ্যানেলে আইপিএল দেখাতে বাধা দেবে না। তিনি আরও বলেছেন, পূর্বের নির্দেশিকাগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে আর প্রযোজ্য নয়, ফলে কেবল অপারেটররা সাধারণ নিয়মেই সম্প্রচার নিশ্চিত করবে।
ফলত: আজ শনিবার ভারতের বেঙ্গালুরুতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে বাংলাদেশি দর্শকরাও কোনো প্রযুক্তিগত বা আইনি বাঁধা ছাড়া স্টার স্পোর্টস ১, ২ ও অন্যান্য নির্ধারিত চ্যানেলে খেলা সরাসরি দেখতে পারবেন। দীর্ঘ বিরতির পর আইপিএলের এই জট থামানোকে অনেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও বাণিজ্যিক সম্প্রচারে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখছেন। আগামী দিনগুলোতে আইপিএলের উত্তাপ আবারও বাংলাদেশের ড্রয়িংরুমগুলোতে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।





