শনিবার, ২৮শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্প: যুদ্ধ শেষ হয়নি, ইরানের ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু এখনও বাকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার মিয়ামিতে দেওয়া একটি বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত এখনই শেষ হবে না। তিনি জানান, ইরানের ভেতরে এখনো অন্তত ৩ হাজার ৫৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু মার্কিন হামলার তালিকায় রয়েছে এবং এসব লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত না করা পর্যন্ত যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বে তিনি কয়েকবার জয় দাবি করলেও বর্তমান পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেই—এই বাস্তবতাও তিনি মেনে নিয়েছেন। তবু তিনি দ্রুতভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং লক্ষ্যগুলো ধ্বংস করাই তাদের অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য পূরণে এগোচ্ছে এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি পরিসমাপ্তির দিকে এগোতে পারে। রুবিও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে মাটিতে বৃহৎ সংখ্যায় স্বল্পসংখ্যক বা বড় বাহিনী পাঠানোর পরিবর্তে আকাশভিত্তিক হামলা ও দূরপাল্লার প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তারা মনে করছে।

রুবিওর মন্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত কৌশলের ছবি তুলে ধরে: ব্যাপক স্থল আক্রমণ এড়িয়ে গিয়ে বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে লক্ষ্যপূর্ণ আঘাত করলে মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমবে—এমন যুক্তি সমর বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেন। তবে এ কৌশলও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় গত এক মাসে যে অস্থিরতা তৈরি করেছে, তা বাড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তারা একটি নির্দিষ্ট ‘টার্গেট লিস্ট’ অনুযায়ী কাজ করছে। ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুর কথা বোঝাচ্ছে যে ইরানের সামরিক, বন্তব্য ও পারমাণবিক অবকাঠামোর বড় অংশ এখনও কার্যকর রয়েছে এবং সেগুলোকে অচল করা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সৈন্যের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও রাজনৈতিক চাপ কমানো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এরপরও, যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো অবস্থান এবং ‘লক্ষ্য দমন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্নই তুলেছে।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই সংঘাত বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, অন্যদিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোতে আঘাত বাড়ানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন—এটি একটি দ্বিমুখী কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তবে যুদ্ধের ময়দানে ইরানি বাহিনীর প্রতিরোধ এবং কৌশলগত প্রতিক্রিয়া আগামী দিনগুলোতে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। আপাতত হোয়াইট হাউসের বėক্তব্যে বলা হয়েছে যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলো কার্যত ধ্বংস না করা পর্যন্ত শান্তি আলোচনার পথ সরল হবে না। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা, আশপাশের রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রভাব কেমন টিকে থাকবে—এসবই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন