ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নতুন মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে ক্ষমতার পরিচয় দিলেন reigning চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বাড়ি এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে খেলায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ঘুম ভেঙে দেয় বিরাট কোহলি ও রজত পতিদারের নেতৃত্বে থাকা দলটি।
টস হেরে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন হায়দরাবাদের অধিনায়ক ইশান কিশান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে দল সংগ্রহ করে ২০১ রান, যা ছিল চ্যালেঞ্জিং কিন্তু হাল ছাড়ার মতো না। ইশান কিশান ওপেন থেকে মাত্র ৩৮ বলেই ৮০ রানের আঘাতকারী ইনিংস খেলেন — ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ভর করে তার ইনিংস দর্শনীয় ছিল। হাইনরিখ ক্লাসেন ৩১ যোগ করেন এবং শেষ ওভারগুলোতে অনিকেত বর্মা ১৮ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলায় দলকে দুইশো ছাড়ার কাছাকাছি নিয়ে যান।
বেঙ্গালুরুর বোলারদের মাঝে অভিষেকেই চডানো শুরু করেন নিউজিল্যান্ড পেসার জ্যাকব ডাফি; মাত্র ২২ রানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে অতি দাপট দেখান। রোমারিও শেফার্ডও ৫৪ রানে তিন উইকেট নেন। এছাড়া ভুবনেশ্বর কুমার, অভিনন্দন সিং ও সুযশ শর্মা—প্রতিজনই একটি করে উইকেট নেন। ডাফির প্রভাবশালী বোলিংই ম্যাচসেরার পুরস্কারের কারণ হয়েছিল।
২০২ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক রূপ নেন বেঙ্গালুরুর ব্যাটাররা। ওপেনার ফিল সল্ট মাত্র ৯ রানে ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পাডিক্কাল মিলে গড়েন ১০১ রানের এক শক্তিশালী জুটি। পাওয়ারপ্লেতে এই যুগল ৭৬ রান যোগ করে মঞ্চ প্রস্তুত করলেন। পাডিক্কাল ২৬ বলে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৬১ রানে বিদায় নিলেও কোহলি এক প্রান্ত ধরে রেখে অপরাজিত থাকেন। ৩৮ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৯ রানে কোহলি দলকে জয় এনে দেন। মাঝে রজত পতিদারও ১২ বলে ৩১ রানের একটি ঝটপট ইনিংস খেলেন, যা জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়।
হায়দরাবাদের পক্ষে ডেভিড পেইন ৩৫ রানে ২ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং লাইনকে তেমন অস্থির করতে পারেননি। বেঙ্গালুরু চার উইকেট হারিয়ে এবং মাত্র ২৬ বল হাতে রেখে ১৫.৪ ওভারেই জয় তুলে নেয়। চিন্নাস্বামির মাঠে কড়া শুরুটা বেঙ্গালুরু শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং লিগের অন্যান্য দলগুলোর জন্যও এটি এক স্পষ্ট সতর্কবার্তা।





