সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জেল-জরিমানার প্রতিবাদে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের অনির্দিষ্ট ধর্মঘট, উত্তরবঙ্গে তেল বিক্রয় স্থবির

রংপুর বিভাগের আট জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন। শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন শ্রমিককে ছয় মাস করে কারাদণ্ড ও মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হওয়ায় এ প্রতিবাদে কর্মবিরতি করা হয়েছে।

শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে সব সরবরাহ ও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, পাম্প মালিকরাও তাদের কর্মসূচির সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেলবাহী একটি ট্রাক নীলফামারীতে যাওয়ার পথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পথে আটকে পড়ে। ট্রাক মেরামত করতে চালক ও সহকারীরা কেবিন খুলে কাজ করছিলেন। তখন রাস্তায় অবস্থানকালে নীলফামারীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) নিয়াজ ভূঁইয়া একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত কেবিন তল্লাশি করে দুইটি জেরকিনে প্রায় ১০ লিটার পেট্রোল ও দুই লিটার ডিজেল উদ্ধারে অভিযুক্ত দেখেন এবং অবৈধ তেল রাখার অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও চালকের সহকারী রিফাতকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

আদালত সাংঘাতিক ও অনির্বচনীয় জেল-জরিমানা প্রসঙ্গে শ্রমিকরা বলেন, রাস্তায় কারিগরি মেরামতের সময় উদ্ধার করা জ্বালানি তাদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়নি; তবু কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা পুলিশি হয়রানি ও অযৌক্তিক শাস্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অভিযুক্ত এনডিসিকে অপসারণ ও দণ্ডিত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তুলেছেন।

রোববার সকাল থেকে শ্রমিকরা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে সমাবেশ করে এবং পরে বিক্ষোভ মিছিলও করে। রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, দাবি মানা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ না হলে ধর্মঘট চলবে।

শ্রমিক ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, সড়কে চলাচলের সময় ট্যাংকলরি চালক, ম্যানেজার ও হেলপারদের ওপর মানসিকভাবে হয়রানি ও জেল-জরিমানা করার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। তাই সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতেই তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

উপস্থিত পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সরাসরি ভোক্তা ও ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে; তবু শ্রমিকদের সাথে তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে একযোগে রয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়ন এখন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য চাপ বাড়াবে বলে জানানো হয়েছে।

কোনো তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলে ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে জানান আন্দোলনকারীরা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় দফতর থেকে কোনো পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখনও তথ্য মেলেনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন