সোমবার, ৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিডে বিশ্বে শীর্ষে বাংলাদেশ, পাঁচটি কারখানা নতুন সনদ পেল

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত পরিবেশবান্ধী শিল্পায়নে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আরও পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানা আন্তর্জাতিক লিড (LEED) সনদ অর্জন করার কারণে দেশে মোট সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা এখন ২৮০টিতে পৌঁছেছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এই তথ্য জানায়। নতুন সনদপ্রাপ্ত পাঁচটি কারখানার মধ্যে তিনটি গোল্ড রেটিং ও দুটি প্লাটিনাম রেটিং পেয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১১৮টি প্লাটিনাম ও ১৪৩টি গোল্ড রেটেড লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানা রয়েছে; বিশ্বের সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড কারখানার মধ্যে ৫২টিই বাংলাদেশের, যা দেশের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর তালিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জের এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭, ঢাকার সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড, ধামরাইয়ের নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২, সাভারের উইন্টার ড্রেস লিমিটেড এবং চট্টগ্রামের মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড।

এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭ ৬৭ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪-এ গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিং ভি৪-গাই-এ গোল্ড সনদ অর্জন করেছে। নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-০২ ৬৫ পয়েন্ট পেয়ে একই ক্যাটাগরিতে গোল্ড রেটিং পেয়েছে। অপরদিকে উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ৮৫ পয়েন্ট এবং মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড ৮৯ পয়েন্ট তুলে নিয়ে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে, যা সর্বোচ্চ মান হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিজিএমইএ জানিয়েছে যে এসব সনদ প্রদান করে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC) তাদের ‘এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (LEED)’ মানদণ্ড অনুযায়ী। বৈশ্বিকভাবে এই স্বীকৃতি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থার অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে গণ্য।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্জনগুলো সবুজ প্রযুক্তি গ্রহণ, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির এবং পরিবেশগত অনুশাসনে ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। LEED সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোতে পানির সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং উন্নত কর্মপরিবেশের মতো সুবিধা থাকায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়ে।

আরও বলা হয়, এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের ওপর ‘গ্রিন ট্যাগ’ থাকায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে, ফলে দরকষাকষায়ও সুবিধা পাচ্ছে ব্যবসায়ীরা এবং দেশের পোশাক খাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও গড়ে উঠছে।

গত ২০২৫ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৮টি কারখানা লিড সনদ অর্জন করে, যা দেশের ইতিহাসে একক বছরে সর্বোচ্চ সংযোজন হিসেবে ধরা হয়। এর ফলে বিশ্বমানের সবুজ কারখানার সংখ্যায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি টেকসই শিল্পায়নে বিনিয়োগ ও উদ্যোগ বজায় থাকে তাহলে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক পরিবেশবান্ধব কারখানা গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশের বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন