শনিবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তামাক কর কাঠামো সংস্কারে জোর, টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন—এই মর্মে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, এমন একটি বাস্তবসম্মত ও স্থিতিশীল কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব আয় বজায় রাখবে এবং 동시에 প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় নিয়ে অন্তর্নিহিত বিশ্লেষণ উপস্থাপিত হয়। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অডিট ও পরামর্শ প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনার সঞ্চালনা করেন পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রধান প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯–২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও রাজস্ব বৃদ্ধির হার প্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে না। বিশেষত ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে করা কর ও মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

রিপোর্টে বলা হয়, বর্তমানে দেশে তামাকের ওপর মোট করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানে অন্যতম উচ্চ হিসেবে বিবেচিত। এই অবস্থায় শুধুই কর বাড়িয়ে আর সহজে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি হঠাৎ কর ও মূল্য পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্য বিস্তারের সুযোগ বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা যোগ করেন, রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে সমতা রক্ষার জন্য একটি কাঠামোগত, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর। ঘন ঘন কর পরিবর্তন ভোক্তাদের সস্তা বিকল্পের দিকে ঠেলে দেয় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করে। বর্তমান জটিল বহুস্তরী কর কাঠামো রাজস্ব পূর্বাভাসকে দুর্বল করে দিচ্ছে—এ কারণে ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (ad valorem) পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর কাঠামোয় রূপান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়, যা প্রশাসনিকভাবে সহজ ও রাজস্ব সংগ্রহে সহায়ক হবে।

অবৈধ বাণিজ্য সীমিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তৎপরতা জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি প্রণালী চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের লাভসীমা সংকুচিত হলে অবৈধ ব্যবসা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে যেতে পারে, যা সম্পূর্ণ খাতকে ঝুঁকিতে ফেলবে।

সার্বিকভাবে উপস্থিতরা একমত হন যে টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগের নিশ্চয়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো এখন সময়ের দাবি। এমন নীতি হলে রাজস্ব বাড়বে, বাজার স্থিতি বজায় থাকবে এবং অবৈধ বাণিজ্যের ঝুঁকি কমবে—ফলশ্রুতিতে খাতটি দীর্ঘমেয়াদে আরও স্থিতিশীল ও বিনিয়োগ-বান্ধব হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন