মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়লের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার পর তা মোকাবিলায় বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিস সরকারি ভাষণে জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে এবং সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপে রেহাই দিতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত কর অর্ধেক করা হবে।
সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই বিশেষ করছাড়া আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম প্রায় ২৬.৩ অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট কমে যাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬৫ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ট্যাংক ভর্তি করলে সাধারণ গ্রাহকরা আনুমানিক ১৯ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সাশ্রয় করতে পারবেন। এছাড়া সাধারণ যানবাহনের সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের ওপর আরোপিত যাবতীয় চার্জও আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হবে, যা নিত্যপণের পরিবহন খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও এর ব্যবহারিক প্রভাব সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল রোডস অ্যান্ড মোটরিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (এনআরএমএ)। সংগঠনের মুখপাত্র পিটার খৌরি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত কাঁচা তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় ইতোমধ্যে বাজারে প্রতি লিটার তেলের দাম প্রায় ৩৩ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কর হ্রাসের সুফল বর্তমান উচ্চ মূল্য অবস্থায় সাধারণ ভোক্তাদের কাছে ততটা স্পষ্ট নাও হতে পারে; মূল সমস্যা তেলের ক্রেতাকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি।
জ্বালানি অবস্থা এখনো নাজুক থাকায় অস্ট্রেলিয়া সরকার নাগরিকদের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক রেশনিং বা ব্যবহারট্র্যারের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণকে অনাবশ্যক জ্বালানি ব্যবহার এড়িয়ে চলার এবং ব্যক্তিগতভাবে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জরুরি মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে বর্তমানে প্রায় ৩৯ দিনের পেট্রোল ও প্রায় ৩০ দিনের ডিজেল ও জেট ফুয়েল আছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলিকেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হতে পারে। আপাতত তিন মাসের কর ছাড়ের মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল হওয়া কষ্টসাধ্য। সব মিলিয়ে এই পদক্ষেপটি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতারই প্রতিফলন।





