জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন অফিস সময়সূচি ও লেনদেন সময় পরিবর্তন ঘোষণা করার পরই দেশের শেয়ারবাজারে প্রবল নেতিবাচক সাড়া পড়ে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে গেছে এবং সূচকগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমেছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার দিনই বাজারে এই মন্দা দেখা যায়। ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেনের সময় বদলে যাওয়া ও জ্বালানি অনিশ্চয়তা সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি করেছে, যা লেনদেন শুরুর মুহূর্ত থেকে নেতিবাচক প্রবণতা হিসেবে প্রতিফলিত হয়।
দিনভর পতন অব্যাহত থাকে এবং শেষ দিকে তা আরও তীব্র হয়। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট সুবিধা হারিয়ে নেমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট নেমে ১ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।
দিন শেষে ডিএসইতে মাত্র ২৫ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৪টির দাম কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত থেকেছে।
ভালো লভ্যাংশপ্রদানকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭টির দাম বাড়লেও ১৭৮টির দরপতন হয়েছে এবং ৮টির কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাঝারি লভ্যাংশদাতা কোম্পানির মধ্যে ৪টির দাম বাড়ে, ৭৫টির দাম কমে এবং ১টির দর অপরিবর্তিত থাকে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির মধ্যে ৪টির দর বেড়েছে, ১০১টির কমেছে এবং ২টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১টির দাম বাড়ে, ৩০টির কমে এবং ৩টি অপরিবর্তিত থাকে।
লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে; এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১১৪ কোটি টাকা কম।
লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকায়। এরপর ছিল একমি পেস্টিসাইড ও সামিট অ্যালায়ন্স পোর্ট। শীর্ষ লেনদেন তালিকায় আরও ছিলেন ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধাঁচের মন্দা দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ২২৮ পয়েন্ট নেমে যায়। সেখানে ১৯০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির দাম বেড়েছে, ১৪৮টির কমেছে এবং ৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করাচ্ছেন, অফিস ও লেনদেন সময়ের হঠাৎ পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকট সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা আগামী দিনগুলোতেও শেয়ারবাজারে ওঠানামার সৃষ্টি করতে পারে; ফলে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।