মঙ্গলবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের সঙ্গে আমেরিকান কূটনীতিক স্টুয়ার্ট জেমসের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সাথে আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস গতকাল সংসদ ভবনের চিফ হুইপের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি এবং সংসদের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সাক্ষাৎকালে বলেন, আগামী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের প্রতি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সমন্বয়কারক মনোভাব দেখিয়ে আসছেন। তিনি জয়লাভের পরে বিরোধীদলীয় নেতৃত্বের বাসায় গিয়ে সৌজন্য প্রকাশ করেছেন, বিরোধী দলের একজনকে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং আনুপাতিকভাবে সংসদের স্থায়ী কমিটি-সভাপতির পদ দেয়ার বিষয়ও বিবেচনা করছেন। তার লক্ষ্য সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা এবং এর জন্য যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগগুলো, সেগুলো নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চিফ হুইপ।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনকাল বেশ কিছু জায়গায় ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে সংবিধানে পরিবর্তন এনেছে; সেগুলো জনগণের স্বার্থে আবারও জনবান্ধব করে তোলা প্রয়োজন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সংবিধান সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই; সংবিধানে পরিবর্তন আনলে তা সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে করা হবে।

নূরুল ইসলাম মনি উল্লেখ করেছেন, সংসদে তাদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সংবিধান সংশোধনে তারা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সম্মতিতে যেতে চান। ‘‘সবাইকে নিয়ে আমরা পথ চলতে চাই; বর্তমান সরকারের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ,’’ তিনি বলেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি বলেন, তারা নীতিগতভাবে বাস্তবায়নের পক্ষে এবং একমত হওয়া বিষয়গুলো পুরোপুরি প্রয়োগ করতে চান; বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়েই সকল পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করতে চান।

এই আলোচনা চলাকালে স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের কিছু জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি ১০ হাজার টাকার পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন।

দুই পক্ষই ভবিষ্যতে সম্পর্ক ও সংলাপ বজায় রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংবিধান পুনরায় জনবান্ধব করার ওপর জোর দিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন