বুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিটি নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন জরুরি: ডিএসসিসি প্রশাসক

নির্বাচনের আগে ঢাকায় নতুন ও পরিষ্কার ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা দরকার বলে দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, শুধু তাদেরই এখানে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত; বাইরে থেকে এসে ভোট দেওয়া যাবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া শিশু কিশোর মেলা’ শিরোনামের এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন roofs তুলে আবদুস সালাম বলেন, ‘‘ঢাকার অনেক বাড়িতে আগে সাত-আটটি ভোট ছিল, কিন্তু হঠাৎ করে সেখানে ১৫০টি ভোট দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকও জানেন না এসব ভোটার কে বা কোথা থেকে এসেছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনি যেখানে থাকেন, সেখানকারই ভোটার হোন—ঢাকায় থাকবেন না, ট্যাক্সও দেবেন না, কিন্তু ভোটের সময় নাম লিখাবেন—এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’’

নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দেশে যখনই নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে; দলের প্রতি তাঁর আস্থা জনঅনুমোদনের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়েই कायम।

বর্তমান বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহসের সঙ্গে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। তিনি যোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিসে এসি চালান না, অতিরিক্ত আলো জ্বালান না—বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’’ তিনি বিরোধীদের দেশকে সংকটে ফেলতে চাওয়ার অভিযোগও করেন।

আবদুস সালাম আরও জানান, নির্বাচনের সময় ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এখন তা বিতরণ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের সমালোচকদের ধৈর্যশীল হওয়া উচিত বলে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘১৭ বছরের পরে মানুষ গণতন্ত্রের মুখ দেখছে; এক-দুই মাসে সব কিছু ঠিক করা সম্ভব নয়। হঠকারী কর্মসূচি দিয়ে দেশের ক্ষতি করবেন না।’’

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পরও ইতিহাসকে ঘেঁটে ফেলা হচ্ছে। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের মনোদশা প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতির পেছনে কাজ করেছে—এমনটাই তার অভিযোগ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুরসহ আরও অনেকে।

পোস্টটি শেয়ার করুন