ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির আত্মপ্রকাশ ও ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কালামপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হওয়া এই ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই ধামরাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুই পক্ষই একে অপরের ওপর অভিযোগ এনেছে।
ঢাকা জেলা উত্তরের নতুন গঠিত কমিটির নেতা-সমর্থকরা অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা চালিয়েছিল। তাদের দাবি, ‘জুলাইকে পুঁজি করে ব্যবসা করে আসছিলেন’ এমন কিছু ব্যবসায়ীদের কারণে কমিটিতে পদ না পেয়ায় এই ধরনের সহিংসতা হয়েছে। ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বলেন, “কমিটি আত্মপ্রকাশের ফলে অনেকের জুলাই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে—এই প্রতিক্রিয়া থেকেই তারা আজকের ঘটনা ঘটিয়েছে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের এনসিপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না।” তিনি বলেন নবগঠিত কমিটির ১০ জন আহত হয়েছেন।
অপরপক্ষে ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা বলছেন, তারা হঠাৎ করে নতুন কার্যালয় উদ্বোধন এবং কমিটি গঠনের বিষয়ে অনভিপ্রেত ছিলেন। শাখার নেতা-কর্মী ইসরাফিল ইসলাম খোকন জানান, “এ মাসের শুরুতে ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটি গঠন করা হয়, কিন্তু সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এটি করা হয়েছে। এতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপে জানানো হয় যে কালামপুরে প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হবে। প্রায় ১৬ মাস ধরে ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অফিস থাকার পর কেন নতুন কার্যালয় হচ্ছে, জানতে চাওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।” তিনি বলেন, ওই হামলায় তিনি ও আরও আঠারণে (৯) জন আহত হয়েছেন।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে; অভিযোগ পেলে তা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্র বলেছে, পরিস্থিতি বর্তমানে তুলনামূলকভাবে শান্ত। তবে ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েই গেছে এবং স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নজরদারি করছে।