মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাল টাঙ্গাইলসহ সারাদেশের জন্য ঐতিহাসিক দিন: কৃষিমন্ত্রী

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ চালু করছে—‘কৃষি কার্ড’। এটি তিন ধাপে ধাপে সারাদেশের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকার নানা সুবিধা পাবেন, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

আগামীকাল ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের প্রথম দিন, টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসবের আয়োজন হয়েছে, যা সবাইকে উদ্দীপিত করেছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, এই কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন ও অগ্রগতি দেখতে যান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলে পুরো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য ও সম্মান পান, সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পহেলা বৈশাখে এই প্রকল্পের উদ্বোধন দিনটিকে দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এটি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন এবং দেশের প্রথম কৃষক কার্ডের যাত্রা, যা টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

প্রাথমিকভাবে, এই প্রকল্পটি টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলট’ হিসেবে চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে এটি পুরো দেশে বিস্তৃত হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী চার বছরের মত সময় লাগতে পারে।

সাংবাদিকদের বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামীকালের কর্মসূচি নিয়ে টাঙ্গাইলের মানুষ अत्यন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। এই জেলায়ই প্রধানমন্ত্রী এই কৃষি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন, যা একদিকে ঐতিহাসিক এবং অন্যদিকে জনবান্ধব।

তিনি ভবিষ্যতেও এই এলাকায় কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। টাঙ্গাইলের ইতিহাসে এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি কৃষক সমাজের জন্য গর্বের বিষয়।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহাম্মদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পোস্টটি শেয়ার করুন