মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে আর্থিক সংকটে পাঁচ সন্তানের মা লামিয়া

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চালকাঠি গ্রামের ২৩ বছর বয়সি লামিয়া বেগম একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্মের পর থেকেই তীব্র আর্থিক এবং মানসিক সংকটে ভুগছেন। গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচটি শিশুর জন্ম হওয়া ওই পরিবারের প্রথম আনন্দ এখন গভীর উদ্বেগে বদলে গেছে।

শুরুতে পারিবারিক ও গ্রামবাসীর মধ্যে খুশির সাংস্কৃতিক ছড়িয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই উল্লাস কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর ঘুমহীন রাতের কোলাহলে ঢাকা পড়ে। দৈনন্দিন পরিবারের সব কাজ সামলাতে গিয়েই লামিয়ার দিন শুরু হয় ভোরের আগেই। একসঙ্গে পাঁচ শিশুকে কোলে নেওয়া, খাওয়ানো, গোসল করানো ও কাপড় বদলানো—সবকিছুই একা করে উঠতে হচ্ছে তাকে। একজন শোনালেই আরেকজন কাঁদছে, একজন ঘুমালেই অন্যজন জেগে ওঠে—এভাবে বিশ্রহহীন দিনের চাকা চলছে।

ক্লান্ত কণ্ঠে লামিয়া বেগম বলেন, “আমি নিজের জন্য কিছু ভাবারও সময় পাই না। সারাবেলা বাচ্চাদের যত্নে কাটে। খাওয়াদাওয়ার ঠিকঠাক সময় নেই। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রাখে খরচ — পাঁচটা বাচ্চাকে মানুষ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। কাউকে পাশে পেলেভাবে হয়তো কিছু সহজ হয়ে যেত।”

শিশুদের বাবা মো. সোহেল হাওলাদার ছোট একটি মুদি দোকান চালান। সীমিত আয়ের কারণে আগেও সংসারের চাকা ঘোরে কষ্টে, আর এখন পাঁচ সন্তানের খরচ যোগ হয়েছে—দুধ, শিশু খাদ্য, ওষুধ, কাপড় ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর ব্যয় বাড়ায় পরিবার খুবই হতাশ।

নানি শাহনাজ বেগম বলেন, “নাতি-নাতনি পেয়ে আনন্দ ছিল, এখন সেই আনন্দ কষ্টে পরিণত হয়েছে। ছোট দোকানের আয় দিয়ে এটা চালানো হয়নি। আমাদের হাতে সামান্য আর্থিক সাহায্যই সব কষ্ট কিছুটা লাঘব করত।”

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি এখন দিনযাপন করছে এক কঠিন বাস্তবতায়; পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে শিশুগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ুন কবির বলেন, “সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সহায়তা নেই। তবে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুর করা যেতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করলে আমরা সহযোগিতা দেব।”

উপযুক্ত সহায়তা মিললে লামিয়া-সোহেল দম্পতির সহায়তা পাওয়া সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা। এ পর্যন্ত পরিবারটিকোণ্থর তাত্ক্ষণিক খাদ্য, শিশুর খাদ্য ও মেডিকেল সহায়তা সবচেয়ে জরুরি বলে জানা গেছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন